কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহায়তায় তৈরি করা ওষুধ প্রথমবারের মতো মানুষের দেহে পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে বিজ্ঞানীরা। অবসেসিভ-কমপালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি) বা অস্থিরতায় ভোগা রোগীদের জন্য এ ওষুধ জাপানে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হবে। সেখানে সফল হলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের পরীক্ষা করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্রিটিশ স্টার্টআপ এক্সসায়েনসিয়া এবং জাপানি ওষুধ কোম্পানি সুমিতোমো দাইনিপ্পন ফার্মা ওষুধটি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে। এআইকে দিয়ে ওসিডি নিরাময়ে ডিএসপি-১১৮১ নামে ওষুধের অণু তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বাস্য কম সময়ের মধ্যে এ অসাধ্য সাধন করা হয়েছে। সাধারণত মানুষের হাতে গবেষণাগারে নতুন ওষুধ তৈরিতে প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। কিন্তু এআই ব্যবহার এ সময় মাত্র এক বছরে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

এক্সসাইয়েনসিয়ার প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক অ্যান্ড্রু হপকিন্স একে এ আবিষ্কারকারকে ওষুধের তৈরির ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রোগ সনাক্তকরণ এবং রোগীর তথ্য উপাত্ত ও স্ক্যান বিশ্লেষণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এখন খুবই সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু একটি সম্পূর্ণ নতুন ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে এআইয়ের প্রত্যক্ষ ব্যবহার এটিই প্রথম।

নির্ভুলভাবে কাঙ্ক্ষিত ওষুধ পেতে সঠিক অণুটি তৈরি করতে কোটি কোটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অধ্যাপক হপকিন্স বলেন, কিন্তু এই অ্যালগরিদমের সৌন্দর্য হচ্ছে এটি সম্পূর্ণরূপে জ্ঞান নিরপেক্ষ। ফলে এটি যেকোনো রোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রথম ধাপে ওষুধটি জাপানে পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হবে। এখানে ফলাফল আশানুরূপ হলে তা বিশ্বব্যাপী পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হবে। কোম্পানিটি এরই মধ্যে ক্যানসার এবং হৃদরোগের ওষুধ তৈরিতে কাজ শুরু করেছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটিও পরীক্ষামূলক ব্যবহারের উপযোগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

অধ্যাপক হপকিন্স নতুন ওষুধ তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়বে উল্লেখ করে বলেন, এ বছর প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডিজাইন করা ওষুধ তৈরি হলো। তবে এই দশকের শেষের দিকে সমস্ত নতুন ওষুধ এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হবে।

সূত্র: বিবিসি