মানুষের মন অনেক জটিল। কিছু মানুষ এমন মানসিক জটিলতায় ভোগে, যা শুনলেই অবাক হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু কিছু মানসিক সমস্যা এতটাই বিরল যে মনোচিকিৎসকেরা সারাজীবনে হাতে গোনা দুই একজন রোগীর দেখা পান। নিচে ৫টি অদ্ভুত মানসিক সিনড্রোমের বর্ণনা দেয়া হলো।
এলিয়েন হ্যান্ড সিন্ড্রোম
এ সিনড্রোমে আক্রান্ত মানুষ নিজের একটি হাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করেন, তাদের হাত আসলে তাদের না। তারা চাইলেও হাতটি থামে না, বরং নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ চালিয়ে যায়। সাধারণত মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল বা প্যারাইটাল লোব ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ব্রেইন সার্জারি, স্ট্রোক বা টিউমারের কারণে এমনটি হয়।
শিশু ও বয়স্ক উভয়ই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে হাতের পরিবর্তে পা’ও প্রভাবিত হতে পারে। যদিও এখনো পর্যন্ত এ রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই, তারপরও আক্রান্ত হাতকে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া
এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের চুল টেনে ছিঁড়তে থাকে। তারা জানে, এতে ক্ষতি হচ্ছে, তবু অনিয়ন্ত্রিত তাড়নার কারণে থামতে পারে না। চাপ বা উদ্বেগের সময় এ আচরণ আরো তীব্র হয়। শুধু চুল নয়, কখনো কখনো তারা চোখের পাপড়ি, ভ্রু, দাড়ি বা গোঁফ-ও টানতে পারে। নারী–পুরুষ যে কারো হতে পারে এ রোগ। তবে নারীরাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। সাধারণত ১২-১৩ বছর বয়সে এ রোগের সূত্রপাত ঘটে। মস্তিষ্কের বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, যেমন সেরোটোনিন ও ডোপামিন সমস্যার কারণে এমন তাড়না সৃষ্টি হতে পারে। আক্রান্তদের অনেকে আবার টেনে ছিঁড়ে ফেলা চুল খেয়েও ফেলেন, যার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে।
পাইকা
পাইকায় আক্রান্ত মানুষ মাটি, সাবান, ছাই, কাঁচ বা রাসায়নিক পদার্থের মতো অখাদ্য জিনিস খেতে শুরু করেন। তাদের এ আচরণ পুষ্টির ঘাটতি বা মানসিক জটিলতার কারণে হয়। সমস্যাটি সাধারণত শিশু ও গর্ভবতী নারীদের মধ্যে দেখা গেলেও বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যাগ্রস্তদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী হয়।
পাইরোমেনিয়া
এ সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা আগুনের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে। আগুন তাদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তারা আগুনের উৎসের কাছাকাছি থাকতে বা আগুন জ্বালাতে আনন্দ পায়। আগুন ধরানোর প্রবণতা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। চিকিৎসা না হলে এটি সামাজিক ও আইনি সমস্যার জন্ম দিতে পারে।
ক্লিনিক্যাল লাইকানথ্রোপি
আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিশ্বাস করতে শুরু করে তারা কোনো প্রাণীতে রূপান্তরিত হচ্ছেন বা এরই মধ্যে হয়েছে। তারা নেকড়, হায়েনা, কুমির বা বৃষের মতো আচরণ অনুকরণ করে। এ সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিভ্রান্তি ও হতাশায় ভোগে। কখনো তারা মানুষের সঙ্গে মিশতে চায় না, বরং প্রাণীর মতো জীবনযাপন করতে চায়। ইতিহাসে পারস্যের শেষ আমির আবু তালিব রুস্তম এ রোগে আক্রান্ত ছিলেন।










