সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডে শামুকের বিরল একটি প্রজাতির অদ্ভুত প্রজনন প্রক্রিয়া ক্যামেরাবন্দি হয়েছে, যা এর আগে কখনও প্রত্যক্ষ করা যায়নি। শামুকের ওই প্রজাতিটি গলা দিয়ে ডিম পাড়ে। শুনতে অবাক লাগলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি তাদের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের অংশ।
বিশ্বের বৃহত্তম স্থলশামুকের একটি, এই পাঅলিফ্যানটা অগাস্টা বা মাউন্ট অগাস্টাস শামুকের এই প্রজনন দৃশ্য প্রথমবারের মতো ধারণ করেছে নিউজিল্যান্ডের ডিপার্টমেন্ট অব কনজারেভশন। দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত একটি খাঁচাবন্দি শামুকের নিয়মিত ওজন মাপার সময় হঠাৎ তার গলা থেকে একটি সাদা ডিম বের হতে দেখা যায়। সংরক্ষণ বিভাগের জীববৈচিত্র্য কর্মকর্তা ইনগ্রিড গ্রুনার বলেন, ‘প্রায় দুই দশক ধরে এই প্রজাতিটি নিয়ে কাজ করলেও কখনও এমন দৃশ্য চোখে পড়েনি। এটা একদম বিরল একটি মুহূর্ত।’
এই শামুকগুলো ধীরে বড় হয় এবং প্রায় ৮ বছর বয়সে প্রজননে সক্ষম হয়। প্রতিবছর তারা গড়ে পাঁচটি মুরগির ডিমের মতো আকারের ডিম দেয়, যা ফোটাতে এক বছরের বেশি সময় লাগে।
শামুকটির গলার দিকে একটি বিশেষ ছিদ্র (জেনিটাল পোর) থাকে, যেখান দিয়ে তারা মিলন ও ডিম পাড়ার কাজ সম্পন্ন করে। এই প্রজাতি উভলিঙ্গ, অর্থাৎ প্রতিটি শামুক একই সঙ্গে স্ত্রী ও পুরুষ। মিলনের সময় উভয়েই একে অপরকে শুক্রাণু সরবরাহ করে, যা পরে ডিমে রূপান্তরিত হয়।
২০০৬ সালে সাউথ আইল্যান্ডের মাউন্ট অগাস্টাস রিজ এলাকায় কয়লা উত্তোলনের জন্য খনন শুরু হলে এই শামুকের প্রাকৃতিক আবাস হুমকির মুখে পড়ে। সে সময় প্রায় ৬ হাজার শামুক উদ্ধার করে কিছু স্থানান্তর করা হয় এবং বাকিদের নিয়ে একটি খাঁচাবন্দি উপনিবেশ গড়ে তোলা হয়।
তবে ২০১১ সালে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ত্রুটির কারণে সংরক্ষণ বিভাগের একটি ফ্রিজে দুর্ঘটনাবশত ৮০০ শামুক মারা যায়। এরপর থেকে সংরক্ষণ কার্যক্রম আরো নিবিড়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে বিভাগটির তথ্যমতে, খাঁচায় ১ হাজার ৮৮৪টি শামুক এবং ২ হাজার ১৯৫টি ডিম রয়েছে। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক পরিবেশেও নতুন কিছু উপনিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে, যেগুলোর টিকে থাকা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংরক্ষণ না করলে হয়তো এই অনন্য প্রজাতিটি এখন পর্যন্ত অজানাই থেকে যেত, কিংবা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেত।










