ঘুমিয়ে পড়ার পর আমাদের মুখের ত্বকের ওপর যেন এক নীরব মিছিল শুরু হয়। অতি ক্ষুদ্র, চোখে দেখা না যাওয়া একদল প্রাণী আমাদের ত্বকে ঘোরাফেরা করে। এদের নাম ডেমোডেক্স মাইট। আট পা-ওয়ালা এই জীবাণুগুলো প্রায় প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ত্বকেই থাকে, বিশেষ করে মুখে।

দিনভর তারা ত্বকের লোমকূপে লুকিয়ে থাকে। রাত গভীর হলে তারা লোমকূপ থেকে বেরিয়ে আসে, মুখের চারপাশে ঘোরাঘুরি করে, একে অপরের সঙ্গে মেলামেশা করে, এমনকি প্রজননও করে। সকাল হতেই আবার তারা ফিরে যায় লোমকূপের গভীরে।

এ মাইটগুলো আমাদের ত্বকের মৃত কোষ ও সেবাম নামের এক ধরনের তৈলাক্ত পদার্থ খায়। এদের দৈর্ঘ্য মাত্র ০.১৫ থেকে ০.৪ মিলিমিটার হওয়ায় সাধারণত বোঝাই যায় না তারা মুখে আছে। অনেকটা অজান্তেই তারা আমাদের ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

তবে সমস্যা হয় তখনই, যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন এই মাইট দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। বেশি হলে তারা ত্বকে সংক্রমণ ঘটায়। চিকিৎসকদের ভাষায়, তখন তা ‘ডেমোডিকোসিস’ নামে পরিচিত একটি রোগে রূপ নেয়। তখন ত্বকে লালচে ভাব দেখা দেয়। এছাড়া ত্বকে চুলকানি, চোখে জ্বালা কিংবা ফোলা ভাবও সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, কেমোথেরাপি নেয়া রোগী কিংবা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা এ সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হন।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সঠিক পরিচর্যা এই সমস্যা প্রতিরোধে সহায়ক। প্রতিদিন রাতে হালকা ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধোয়া, চোখের সাজসজ্জা তুলে ফেলা ও ত্বকে অতিরিক্ত তৈলাক্ত প্রসাধনী না লাগানোই উত্তম। প্রয়োজনে আইভারমেকটিন বা মেট্রোনিডাজল জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করতে বলা হয়।

গবেষণায় জানা গেছে, এই মাইট জন্মের পরপরই মায়ের সংস্পর্শ থেকে শরীরে আসে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সংখ্যাও বাড়ে। মুখের ত্বকে নীরবে বসবাস করা এই মাইট একদিকে শরীরের সঙ্গী হলেও, যত্নের অভাবে হয়ে উঠতে পারে অস্বস্তির কারণ। —সিএনএন