টোকিওতে এমন একটি রেস্তোরাঁ আছে, যেখানে ভুল করা মানে ভুল নয়। বরং ভুলই এখানকার বৈশিষ্ট্য। রেস্তোরাঁয় গিয়ে আপনি ডাম্পলিং অর্ডার করলে পেতে পারেন মিসো স্যুপ। গ্রিলড ফিশ অর্ডার করলে হয়তো চলে আসবে সুশি। এমনই এক স্বর্গীয় গোলমাল নিয়ে কাজ করে রেস্টুরেন্ট অফ মিসটেকেন অর্ডারস। এখানকার ৩৭ শতাংশ টেবিলে পরিবেশন করা হয় অর্ডারের চেয়ে ভিন্ন খাবার। তবুও ৯৯ শতাংশ গ্রাহকই সন্তুষ্ট। ভুলই স্বাভাবিক এখানে—কারণ এই রেস্তোঁরার পরিবেশনকারীরা সকলেই ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত।
এই অদ্ভুত ও হৃদয়গ্রাহী রেস্তোরাঁটি কেবল খাবার পরিবেশন করে না, পরিবেশন করে মানবিকতার এক অনন্য বার্তা। ভুল পণ্য, ভুল বোঝাবুঝি, ভুল টেবিলে জল পৌঁছানো—এখানে এসবকে দেখার চোখ ভিন্ন। কারণ এসব ভুল যে মানুষগুলো করেন, তারা ভুলে যাওয়ার রোগে আক্রান্ত। আর এই রেস্টুরেন্টে কাজ করার এটাই তাদের যোগ্যতা।
এই রেস্তোরাঁর লক্ষ্য কেবল খাবার পরিবেশন নয় বরং সমাজকে দেখানো—ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরাও হাসিমুখে কাজ করতে পারেন, বন্ধন গড়তে পারেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- তারা কেউ অন্যের বোঝা নয় বরং মূল্যবান। রেস্তোরাঁটির প্রতিষ্ঠাতা জাপানি টেলিভিশন পরিচালক শিরো ওগুনি। ডিমেনশিয়া নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৭ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এর শাখা খোলা হয়।
জাপানের এই উদ্যোগ দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়াতেও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। এটি কেবল একটি সামাজিক প্রকল্প নয়— বর্তমানে এটি একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলন হয়ে উঠছে। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এমন কাজের সুযোগ তৈরি করা, তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা, সমাজকে আরো সহানুভূতিশীল করে তোলা—এই রেস্তোরাঁর লক্ষ্য।
২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের ডিমেনশিয়া আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১১ কোটির বেশি হতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে শিরো ওগুনির উদ্যোগ শুধু প্রশংসাযোগ্য নয়, প্রয়োজনীয়ও। 'রেস্তোরাঁ অফ মিসটেকন অর্ডারস' প্রমাণ করেছে খাদ্য নয়, মানবিক সম্পর্কই আসল পণ্য।










