হোটেল ত্যাগ করেছেন। অর্ধেক পথে আসার পর ফোন এল। জানানো হলো, আপনি এমন কিছু সঙ্গে নিয়ে চলে এসেছেন, যা আনা নিষেধ। সুতরাং জরিমানা গুণতে হবে। সেই সঙ্গে বলা হলো, পরবর্তীতে আপনাকে আর ওই হোটেলে থাকতে দেয়া হবে না। ব্যাপারটা কেমন হবে তখন?

ভ্রমণকে উপভোগ্য করে তোলার জন্য সম্ভাব্য সব চেষ্টা করে হোটেল। ভ্রমণকারীকেও শুধু অবস্থানের জন্য না, সেখানে ব্যবহার্য জিনিসের জন্যও পয়সা গুণতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই হোটেল ত্যাগের সময় ভর করে দ্বিধা; সঙ্গে করে কী নেয়া যাবে আর কী নেয়া যাবে না। চলুন স্পষ্ট হয়ে নেয়া যাক।

সাবান: অতিথির পরিচ্ছন্নতার কথা মাথায় রেখে বাথরুমে সাবান দেয়া থাকে। হোটেল ত্যাগের সময় কেউ সেই সাবান নিয়ে বের হতে পারেন। এর জন্য কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই ভ্রমণকারীকে জরিমানা করবে না।

শ্যাম্পু কিংবা কন্ডিশনার: অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনার ব্যবহারের জন্য শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার হোটেল থেকেই দেয়া হবে। এই পণ্যগুলো থাকে মূলত ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য। ফলে সেগুলো নিয়ে বের হওয়ার মানে হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রচারণাই। ব্যাপারটিকে শাস্তিযোগ্য মনে করে না কেউ।

আনুষঙ্গিক বিষয়াদি: কিছু জিনিস হোটেল কর্তৃপক্ষ থেকে দেয়া হয়। কফি, চিনির প্যাকেট, ক্রিমার কিংবা কিছু ব্যবহার্য সামগ্রী। চাইলে এগুলো অনায়াসে হোটেল ত্যাগের সময় নিতে পারেন। অবশ্য অনেক হোটেল বলেকয়েই উপহার সামগ্রীও রাখে অতিথির জন্য।

কাগজ-কলম: রুমে দেয়া কাগজ সাধারণত হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রচারণার জন্যই দেয়া হয়। অতিথি চাইলে সেগুলো হোটেল ত্যাগের সময় নিজের সঙ্গে নিতে পারে।    

টাওয়াল ও বিছানার চাদর: টাওয়াল, বিছানার চাদর কিংবা জানালার পর্দার মতো গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো চাইলেই নিয়ে বের হওয়া যাবে না।

হোটেল কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ চেষ্টা অতিথির জন্য স্বস্তিকর অভিজ্ঞতা তৈরি করা। ফলে মূল্যবান জিনিসগুলো একজন অতিথির পর অন্য অতিথির জন্য ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। যা-ই হোক, জরিপে দেখা যায় প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ হোটেল ত্যাগের সময় সঙ্গে করে টাওয়াল বা চাদরের মতো জিনিস নিয়ে যায়, যা অন্যায়। এর জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ চাইলে জরিমানা করতে পারবে।

ইলেকট্রনিক্স: এই প্রসঙ্গে সাধারণত আগেই জানানো হয়। যদি কারণবশত নাও জানিয়ে থাকে, তবুও রুমে রাখা কোনো ডিভাইস কিংবা ইলেকট্রনিক্স রুম থেকে সরিয়ে নেয়া নিষেধ। অসতর্কতাবশত কেউ নিয়ে ফেললে লজ্জার বিষয় হবে নিশ্চিত।

গাউন: আপনার হোটেল অভিজ্ঞতাকে মধুর করে তুলতেই গাউন রাখা হয়। তার মানে এই না যে, আপনি সেগুলো চিরতরে নিজের করে নেবেন। জরিপে দেখা যায়, অনেক মানুষই হোটেল থেকে গাউন বাগিয়ে নেয়। যদি এই কাজ ভুলেও করে বসেন, তাহলে অবশ্যই জরিমানার কবলে পড়বেন।

কাঁচের বোতল, মগ ও হ্যাঙ্গার: উন্নত হোটেলে সাধারণত একটা তালিকা থাকে। অতিথিদের মধ্যে কারা হোটেল বেশি নোংরা করছে কিংবা বিভিন্ন জিনিস বাগিয়ে নিয়ে গেছে, তাদের নাম থাকে তাতে। তারা চাইলে কোন ব্যক্তিকে কালো তালিকাভুক্ত কিংবা জরিমানা ধার্য করতে পারে। রুমের মধ্যে কাঁচের গ্লাস, অ্যাশট্রে, হ্যাঙ্গার কিংবা মগ থাকলে তা হাতিয়ে নেয়া অপরাধ হিসেবেই গণ্য করা হয়। 

ঘটনার পর দুঃখপ্রকাশ বা জরিমানা দেয়ার চাইতে ঘটনার আগেই সতর্ক থাকা উত্তম। কোন হোটেলের রুমে অবস্থান করার আগেই নিশ্চিত হয়ে নিন; কোনটা সাময়িক ব্যবহারের জন্য আর কোনটা বাসায়ও নিতে পারেন। 

রিডার্স ডাইজেস্ট অবলম্বনে