ভাড়া তো দিলেন, এবার লাগেজ রাখার জন্যও গুণতে হবে আলাদা টাকা—এই অভিজ্ঞতা এখন সারা বিশ্বের যাত্রীদের জন্য বাস্তবতা। কানাডা থেকে শুরু করে আমেরিকা, ইউরোপে উড়োজাহাজে উঠতেই লাগেজের ওজন আর আকার নিয়ে কড়াকড়ি। তার সঙ্গে 'অতিরিক্ত ফি' দাবি। লাগেজ পরিবহন বাবদ বিশ্বজুড়ে আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

টরন্টো বিমানবন্দরের বাইরে দাঁড়িয়ে লরেন আলেকজান্ডার বলছিলেন, ‘এটা ঠকানোর মতো লাগে। আপনি টিকিট কিনলেন, মনে করলেন দাম কম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাগ নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ২০০ ডলার দিতে হবে।’ ফি এড়াতে তিনি এবার একটি ছোট ব্যাকপ্যাক নিয়ে হ্যান্ড ব্যাগেজ হিসেবে ভ্রমণ করেছেন। ২৭ বছর বয়সী সেজ রাইলিও একমত, ‘এখন ভ্রমণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।’

এই অতিরিক্ত ব্যাগ ফি বা ‘জাঙ্ক ফি’র সূত্রপাত ২০০৬ সালে, যখন যুক্তরাজ্যের বাজেট এয়ারলাইন্স ফ্লাইবি প্রথম যাত্রীদের লাগেজ চেক-ইন করতে আলাদা চার্জ নিতে শুরু করে। এরপর দ্রুত এই প্রথা ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য বাজেট এয়ারলাইন্সে। পরে বড় বড় সংষ্থাগুলোও তা অনুসরণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের এভিয়েশন কনসালটেন্ট জে সোরেনসেনের মতে, ‘বাজেট এয়ারলাইন্সগুলো যখন বাজারে ভয়ংকর প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করল, তখন বড় এয়ারলাইন্সগুলো বাধ্য হয়েই লাগেজ চার্জ চালু করে।’

বর্তমানে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ২০২৪ সালে চেক-ইন ব্যাগ থেকে আয় হয়েছে ৭.২৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ২৬% বেশি। তাই অনেক যাত্রীই এখন কেবল হ্যান্ড লাগেজ নিয়েই ভ্রমণের চেষ্টা করেন।

ইউকে-ভিত্তিক লাগেজ কোম্পানি অ্যান্টলারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কির্স্টি গ্লেন বলেন, ‘এয়ারলাইনের সাইজ লিমিট মেনে ছোট স্যুটকেসের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। আমাদের একটি নতুন মডেল এপ্রিলে লঞ্চ হয়েছে, যা দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।’ একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াতেও লাগেজ ‘হ্যাক’ ভিডিওর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তবে হ্যান্ড লাগেজেও সমস্যা থামছে না। ইউরোপের বেশ কিছু উড়োজাহাজ সংস্থা এখন হ্যান্ড লাগেজের ওপরও চার্জ নিচ্ছে।