‘ডে-লাইট সেভিং টাইম’— বছরে দুইবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে বা পিছিয়ে দেয়ার নিয়ম। ঘড়ির কাঁটা ঘোরানো ব্যাপারটা শুনতে চমকপ্রদ মনে হলেও বাস্তবে তা হয়ে উঠেছে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত সময়নীতি। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দু’বার— মার্চে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দেয়া হয়, আবার নভেম্বরে পেছনে নেয়া হয়।
বাংলাদেশেও ২০০৯ সালে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা ডিএসটি চালু হয়েছিল। উদ্দেশ্য একটাই—দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার ও জ্বালানি সাশ্রয় করা।
ডে-লাইট সেভিংয়ের ধারণা প্রথম আসে ১৮শ শতকে। বেনজামিন ফ্র্যাঙ্কলিন মজা করে বলেছিলেন, মানুষ যদি ভোরে উঠে সূর্যের আলো কাজে লাগায় তবে মোমবাতির খরচ বাঁচানো যাবে। পরবর্তীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় এ নিয়ম।
শুরুতে এটি অর্থনীতির জন্য কার্যকর বলে মনে হলেও, সময়ের সঙ্গে এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। ২১ শতকের আধুনিক জীবনে এই প্রথা আসলেই কি প্রয়োজনীয়, নাকি অস্বস্তির?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়ের এ হেরফের মানবদেহের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম সময় পরিবর্তনে ব্যাহত হয়। যার প্রভাবে ঘুমের ছন্দ ভেঙে যায়, মানসিক চাপ বাড়ে যা স্থূলতা, স্ট্রোকসহ নানা শারীরিক সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নতুন গবেষণা বিশেষজ্ঞদের পুরনো যুক্তিকে শক্তিশালী করেছে। ‘প্রসেডিং অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা দেখিয়েছেন, সারা বছর স্ট্যান্ডার্ড টাইম চালু থাকলে স্থূলতা ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে।
ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটি চ্যান স্কুল অব মেডিসিনের স্নায়ুবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. কারিন জনসন বলেন, শরীরের ছন্দ সূর্যের সঙ্গেই সেট হয়। তাই সূর্যের সময়ের সঙ্গে যত বেশি সামঞ্জস্য রাখা যায়, ঘুম, মস্তিষ্ক ও শরীরের স্বাস্থ্যের জন্য তত ভালো। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব স্লিপ মেডিসিন, আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব নিউরোলজি এবং ন্যাশনাল সেফটি কাউন্সিলও স্থায়ী স্ট্যান্ডার্ড টাইমকে সমর্থন করছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদরা চলেছেন ভিন্ন পথে। রাজনীতিতেও ডে-লাইট সেভিং উত্তপ্ত আলোচনার বিষয়। একদল রাজনীতিবিদ চান এটি স্থায়ীভাবে চালু হোক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এটিকে ‘৫০-৫০ ইস্যু’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার প্রশাসন চায় ডিএসটি স্থায়ী হোক।










