বড়দের যেমন নিয়মিত দাঁতের যত্ন নেয়া প্রয়োজন, তেমনি শিশুদেরও দাঁত, মাড়ি সুস্থ রাখতে এবং দাঁত ক্ষয়মুক্ত রাখতে নিয়মিত যত্নের প্রয়োজন। তবে শিশুদের দাঁতের যত্নে বড়দের তুলনায় কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।

শিশুর মুখে দাঁত ওঠার আগে থেকেই যত্ন নেয়া উচিত। প্রতিবার দুধ খাওয়ার পর মাড়ি এবং জিহ্বা নরম সুতি কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে দেয়া জরুরি।

বয়স ৩ বছর পার হলে ধীরে ধীরে নরম ব্রিসেলযুক্ত শিশুদের ব্যবহার উপযোগী টুথব্রাশ ও অল্প পরিমাণে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কারে অভ্যস্ত করতে হবে। দাঁত নির্দিষ্ট বয়সে স্বাভাবিক ভাবে না পড়লে অবশ্যই ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে।

শিশুর দুধ দাঁত সাধারণত ৬ বছর বয়স থেকে পড়া শুরু হয়, কোনো কারণে পার্মানেন্ট দাঁত উঠতে দেরি হলে এক্সরের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করা যায় এবং প্রয়োজনে দাঁত কৃত্রিম পদ্ধতিতে প্রতিস্থাপন করা যায়।

টুথপেস্টের ক্ষেত্রে এক থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের ফ্লোরাইডমুক্ত টুথপেস্ট দিতে হবে। এ সময় বিভিন্ন রং ও স্বাদের জেল টুথপেস্ট দেয়া যেতে পারে। কারণ শিশুরা এ সময় সঠিকভাবে কুলি করতে পারে না বলে অনেক সময় টুথপেস্ট গিলে ফেলে।

তবে তিন বছর বয়স থেকে ফ্লোরাইড আছে এমন পেস্ট ব্যবহার করা উচিত। ফ্লোরাইড দাঁতকে শক্তিশালী করে, দাঁতের ক্ষয় রোধ করে এবং মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে। দাঁত ব্রাশের পর মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। ফ্লোরাইডের পরিমাণ বেশি হলে দাঁতে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই কম ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট বেছে নিতে হবে।

সকালে নাশতার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। প্রতিবার কমপক্ষে দুই মিনিট করে দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস করতে হবে।

বিভিন্ন ঋতুতে দাঁতের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শিশুর দাঁতে কোনো মাইক্রোস্কোপিক স্টোন জমা হয়েছে কিনা সেবিষয়ে অভিভাবককে খেয়াল রাখতে হবে। দাঁতে ব্যথা বা শিরশির অনুভূত হলে গরম পানিতে লবণ দিয়ে দিনে অন্তত ২-৩ বার কুলকুচা করতে হবে। ব্যথার তীব্রতা বেশি হলে যদি ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া সম্ভব না হয়, তখন তাৎক্ষণিক ভাবে ব্যথা কমানোর জন্য লবঙ্গ ছেঁচে সেটির রস নরম তুলো দিয়ে যেখানে ক্যারিজ হয়েছে, সেখানে লাগাতে হবে।

অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার, ক্যান্ডি, আঠালো বা দাঁতের গায়ে লেগে থাকে এমন খাবার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়ানো যাবে না এবং খাওয়ার পর ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। শিশুদের সাধারণ বদভ্যাসগুলো, যেমন- আঙুলচোষা, জিহ্বাচোষা, ঠোঁটচোষা, নখকামড়ানো ইত্যাদি দাঁতের স্বাভাবিক গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এসব থেকে শিশুকে বিরত রাখতে হবে।