আমাদের চোখে অনেক গ্রন্থি আছে। চোখকে নিরাপদ রাখাই এগুলোর কাজ। কোনো কারণে গ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে বা গ্রন্থিগুলো থেকে পানি নিঃসরণ কমে গেলে চোখ শুষ্ক হয়ে পড়ে। মূলত এ সমস্যাকেই বলা হয় ‘ড্রাই আই’। এ ছাড়া বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চোখের পানি তৈরির ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। চোখের পানির ঘনত্বেও আসে পরিবর্তন। সাধারণত নারীরা, বিশেষ করে মেনোপজের পর এ সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হন। কারণ, কিছু হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে তখন চোখের পানি তৈরির ক্ষমতা হ্রাস পায়।

চোখ জ্বালাপোড়া, চোখ খচখচ, চোখ লাল, চোখে চুলকানি ও চোখে হালকা পিঁচুটি জমা হওয়া ড্রাই আই বা শুষ্ক চোখের লক্ষণ। এ সময় চোখে একধরনের অস্বস্তি বোধ হয়। প্রায়ই দেখা যায়, চোখে চুলকানির প্রধান কারণ এই চোখের শুষ্ক ভাব। বিশেষ করে যারা কম্পিউটারে বা ডিজিটাল স্ক্রিনে দীর্ঘ সময় কাটান।

নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে চোখের শুষ্কতার চিকিৎসা করা হয়।

চোখ স্বল্প মাত্রায় শুষ্ক হলে কৃত্রিম চোখের পানি, অর্থাৎ পলিইথিলিন গ্লাইকল ও প্রোপাইলিন গ্লাইকলের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। মাঝারি তীব্রতার শুষ্ক হলে ১ ভাগ কার্বোক্সিমিথাইল সেলুলোজ বা সিএমসি ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। তীব্র মাত্রার হলে ১ ভাগ হিপ্রোমেলোজ বা অন্যান্য প্রিপারেশন ব্যবহার করতে পারেন। কৃত্রিম চোখের পানির সুনির্দিষ্ট কোনো ডোজ নেই। দিনে যে কয়েকবার দিলে চোখে আরাম বোধ হয়, সেটাই ডোজ।

তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ওষুধ ব্যবহার করা ঠিক নয়। অবশ্যই একজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।

এছাড়া হালকা ও আরামদায়ক গরম ভাপ চোখের ভেতরের অংশের সঞ্চালন বৃদ্ধি করে অশ্রু উৎপাদন ত্বরান্বিত করে। একই সঙ্গে গরম ভাপ আইলিড গ্ল্যান্ডের তেল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি করে। হালকা গরম পানিতে নরম পরিষ্কার তোয়ালে চুবিয়ে পানি নিংড়ে ভাঁজ করে চোখের পাতার ওপর কয়েক মিনিট দিয়ে রাখলে চোখের শুষ্কতা দূর হয়। প্রতিদিন দুইবার এভাবে গরম ভাপ নিলে তিন-চার দিনের মধ্যে চোখের শুষ্কতার সমস্যা কমবে।

চোখের পাতা ভালোভাবে পরিষ্কার করার মাধ্যমেও চোখের শুষ্কতা কমানো যায়। চোখের পাতা পরিষ্কার করতে ক্ষারমুক্ত বেবি শ্যাম্পু হাতের আঙুলে নিয়ে ঘষে ফেনা তৈরি করতে হবে। এবারে চোখ বন্ধ করে চোখের ওপরের পাতা বরাবর ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করতে হবে। ম্যাসাজের পুরো সময়টুকু চোখ বন্ধ রাখতে হবে। এবার হালকা গরম পানিতে চোখের পাতা ধুয়ে নিতে হবে। প্রতিদিন রাতে একবার এভাবে চোখ পরিষ্কার করলে সমস্যা কমবে।

ক্যাফেইন টিয়ার গ্ল্যান্ডের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে। যাদের ইনসমনিয়ার সমস্যা ও ক্যাফেইন সেনসিটিভিটি নেই, তারা ক্যাফেইন (চা বা কফি) গ্রহণ করতে পারেন। দৈহিক ওজনের ওপর নির্ভর করে ২ থেকে ৬ কাপ পর্যন্ত কফি পান করতে পারবেন, যা চোখের শুষ্কতা কমাতে পারবে।

চোখ যাতে শুষ্ক না হয় সেজন্য প্রবল বাতাস ও আলোযুক্ত স্থানে সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে। মোটরসাইকেল চালানোর সময় গগলস পরতে হবে। শুষ্ক চোখের সমস্যা নিয়ে যদি স্ক্রিন ওয়ার্ক করতে হয়, অর্থাৎ কম্পিউটার ও মুঠোফোন ব্যবহার করা প্রয়োজন হয়, তবে গ্লাস পরে কাজ করতে পারেন। এছাড়া যারা দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করেন, তারা বারবার বিরতি নেবেন। দৃষ্টি সরিয়ে নেবেন এবং চোখের পলক ফেলবেন। কম্পিউটারের লেভেলও যেন এমন উচ্চতায় থাকে, যাতে চোখ বড় বড় করে বা উঁচিয়ে দেখতে না হয়।

হেয়ার ড্রায়ার, টেবিল ফ্যান, হিটার বা এসির বাতাস যেন সরাসরি চোখের ওপর এসে না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।