বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী ২৯ কোটি ৬০ লাখের মতো মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল। ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ক্রনিক হেপাটাইটিস সিতে আক্রান্ত। ১৫ লাখ মানুষ ক্রনিক হেপাটাইটিস বিতে আক্রান্ত ছিল।

হেপাটাইটিস বি ও সি উভয়ই আজীবন সংক্রমণ হতে পারে। ডব্লিউএইচওর গবেষণা অনুসারে, লিভার ক্যান্সার, সিরোসিস ও দীর্ঘস্থায়ী ভাইরাল হেপাটাইটিস দ্বারা সৃষ্ট অন্যান্য অসুস্থতার কারণে ২০১৯ সালে ১১ লাখ মানুষ মারা গেছে। হেপাটাইটিস সি ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ১২৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০২০ সালে তা আরো ১৫ শতাংশ বেড়েছ। হেপাটাইটিস বি আক্রান্তদের মধ্যে ২০২১ সালে ১২-২৫ শতাংশের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছে। ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী এক হাজারের বেশি শিশু হেপাটাইটিসে আক্রান্ত ছিল। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ৩৫০ জন আক্রান্ত ছিল।

কারা বেশি ঝুঁকিতে আছে?

কিছু মানুষের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এটি নিম্নরূপ:

  • আরেকজনের ব্যবহৃত সুই বা সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে
  • একাধিক যৌনসঙ্গী থাকা
  • অ্যালকোহল গ্রহণ করলে
  • পুষ্টিহীনতায় ভুগলে
  • হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে কাজ করলে
  • দীর্ঘমেয়াদি কিডনি ডায়ালাইসিস গ্রহণ করলে
  • স্যানিটেশন ব্যবস্থা খারাপ এমন এলাকায় ভ্রমণে গেলে

হেপাটাইটিস বিশ্বে বিশাল প্রভাব ফেলেছে। দিন দিন এ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য যথার্থ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। কারণ আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই জানেন না তারা সংক্রমিত।

যদি এ অবস্থার চিকিৎসা না করা হয় তবে এটি লিভারের গুরুতর ক্ষতি, সিরোসিস এবং এমনকি লিভার ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। তাই প্রাথমিক শনাক্তকরণের জন্য স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে হবে।

এ গুরুত্বপূর্ণ দিনে, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, সরকার এবং সংস্থাগুলো এ গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যাটি মোকাবেলার লক্ষ্যে সরকারি তহবিল এবং গবেষণা বাড়াতে হবে। এ রোগের প্রকোপ কমাতে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনমান উন্নত করার দিকে নজর দিতে হবে।

হেপাটাইটিস প্রতিরোধের উপায়

  • পানিবাহিত হেপাটাইটিস রোধ করতে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। পানি ফুটিয়ে পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। যেখানে-সেখানে খাবার বা পানি খাওয়া যাবে না। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই।
  • বাইরের খোলা খাবার ও পানি, শরবত, জুস খাওয়া যাবে না।
  • ব্যক্তিগতভাবে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। রান্না, পরিবেশন ও ধোঁয়ার কাজে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
  • টয়লেট ব্যবহারের পর, খাবার আগে, খাবার প্রস্তুত করার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।
  • রক্ত সঞ্চালনে সতর্ক থাকতে হবে। অনিরাপদ রক্ত কখনই ব্যবহার করা যাবে না। কেবল পরীক্ষিত রক্তদাতার রক্ত গ্রহণ করা যাবে।
  • অনিরাপদ যৌন সংসর্গ থেকে দূরে থাকতে হবে। মাদক গ্রহণ করা যাবে না।
  • হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘বি’-এর কার্যকর টিকা আছে। টিকাগুলো নিতে হবে। শিশুদের হেপাটাইটিস ‘বি’ টিকা বর্তমানে জাতীয় টিকা প্রকল্পেও দেয়া হচ্ছে।