চিকেন পক্স নিয়ে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার প্রচলিত আছে। আমেরিকার কিছু অঞ্চলে চিকেন পক্স আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে পার্টির আয়োজন করা হতো। সেখানে যে শিশুদের চিকেন পক্স হয়নি, তারাও অংশগ্রহণ করত। যাতে যাদের হয়েছে, তাদের সংস্পর্শে এসে অন্যরা এ রোগে আক্রান্ত হয়। যদিও বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোর বিরোধিতা করেন। কারণ চিকেন পক্স গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। এ থেকে শিশুদের রক্ষা করার সর্বোত্তম উপায় হলো টিকা দেয়া।

অনেকের ধারণা চিকেন পক্স তেমন কোনো গুরুতর রোগ নয়। চিকেন পক্স খুব মারাত্মক হতে পারে, এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে। এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আগে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতো, যাদের বেশির ভাগই শিশু ছিল। প্রতি বছর ১০ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হতো এবং ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যেত।

চিকেন পক্স শুধু শিশুদের প্রভাবিত করবে, বিষয়টি এমন নয়। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কারণে তার পরিবার ও আশপাশের মানুষও প্র্ভাবিত হতে পারে। সন্তান চিকেন পক্স আক্রান্ত হলে অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মাও অফিস যেতে পারেন না। আক্রান্ত শিশুর ভাই-বোন থাকলে তারাও স্কুলে যাওয়া থেকে বিরত থাকে। চিকেন পক্সের টিকা শুধু শিশুকেই নিরাপদ রাখে না, তার আশপাশের মানুষকেও নিরাপত্তা দেয়। তবে টিকা কার্যকর হওয়ার জন্য ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হওয়া জরুরি।

চিকেন পক্স হলেই তা ভ্যাকসিনের চেয়ে ভালো প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, এটি একটি ভুল ধারণা। তাই এ রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে নিরাপদ ‍উপায় হলো ভ্যাকসিন দেয়া। চিকেন পক্স আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন চর্ম রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভ্যাকসিন দিলে সে আশঙ্কাও কমে।

ভ্যাকসিন নিলে চিকেন পক্স হয়, এটিও একটি ভুল ধারণা। ভ্যাকসিন মূলত দেয়া হয় এটি না হওয়ার জন্য। চিকেন পক্স আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করলে রোগটি ছড়ায়। টিকা দেয়া থাকলে, চিকেন পক্স হলেও তা গুরুতর আকার ধারণ করে না। গায়ে ফোসকা পড়ে না।