অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার দ্রুত ছড়ায়। ধরাও পড়ে না সহজে। যখন ক্যান্সার চিহ্নিত হয়, তখন রোগীকে বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে রোগীর ঝুঁকির মাত্রা কিছুটা কমানো যায়। অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার নির্ণয়ে যে পরীক্ষাগুলোর প্রয়োজন তা নিম্নে দেয়া হলো—
- রক্ত পরীক্ষা
- পিইটি স্ক্যান—এটি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার ডিগ্রি পরীক্ষা করতে সহায়তা করে
- এন্ডোস্কোপিক আল্ট্রাসাউন্ড
- এমআরআই
- বায়োপসি—সন্দেহজনক অঞ্চল থেকে টিস্যুর নমুনা নেয়া হয় এবং পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়। বায়োপসি নিম্নলিখিত উপায়ে সম্পাদন করা যেতে পারে:
ফাইন নিডল অ্যাসপিরেশন (এফএনএ) নামে পরিচিত পার্কিউটেনিয়াস একটি সুচ ভেতরে প্রবেশ করানো হয় এবং কিছু টিস্যু নেয়া হয়।
এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগ্রেড কোলঙ্গিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি:–এ প্রক্রিয়ায় একটি ক্যামেরা এবং তার প্রান্তে অন্য সরঞ্জামগুলোসহ একটি নমনীয় নলকে অগ্ন্যাশয়ের কাছাকাছি, ছোট অন্ত্রের কাছে মুখ দিয়ে প্রবেশ করানো হয় এবং প্রভাবিত অঞ্চলের টিস্যু নমুনার সঙ্গে চিত্র সংগ্রহ করতে সহায়তা করে।
অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের প্রকারভেদ
অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের দুটি বড় আর গুরুত্বপূর্ণ প্রকার রয়েছে:
অগ্ন্যাশয় অ্যাডেনোকার্সিনোমা: এটি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ প্রকার, যা অগ্ন্যাশয়ের বহিঃস্রাব কোষে ঘটে।
অগ্ন্যাশয় নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমার: এটি একটি বিরল ধরনের অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার, যা অন্তঃস্রাবী কোষে ঘটে, যা হরমোন নিঃসরণ করে এবং মেজাজ ও বিপাককে প্রভাবিত করে।
অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের পর্যায়গুলো
প্রথম পর্যায়: ক্যান্সার অগ্ন্যাশয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
দ্বিতীয় পর্যায়: ক্যান্সার অগ্ন্যাশয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ তবে টিউমার আকারে বেড়েছে (২-এর বেশি তবে ৪ সেন্টিমিটারের বেশি নয়)।
তৃতীয় পর্যায়: টিউমারটি আকারে ৪ সেন্টিমিটারের বেশি এবং ক্যান্সারটি আশপাশের লিম্ফ নোডগুলোয় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
চতুর্থ পর্যায়: ক্যান্সারটি নিকটস্থ রক্তনালি বা স্নায়ুতে ছড়িয়ে পড়েছে।
পঞ্চম পর্যায়: ক্যান্সার দূরবর্তী অঙ্গগুলোয় ছড়িয়ে পড়েছে।










