সুস্থ থাকতে হলে শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা না বাড়লে মানুষ অল্প অসুস্থতায়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। যার ফলে রোগের আক্রমণ জোরালো হয়। কী কী উপায়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো যায় এ নিয়ে বেশকিছু গবেষণা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন ভিটামিন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। এছাড়া খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দুগ্ধজাত খাবারগুলো বিজ্ঞানের ভাষায় প্রোবায়োটিকস হিসেবে পরিচিত। যেমন দই, ঘোল, ছানা ইত্যাদি। মানুষের পাকস্থলীতে যে আবরণ আছে, সেটার ভেতরে বেশকিছু উপকারী জীবাণু কার্যকর হয়। দুগ্ধজাত খাবার উপকারী জীবাণু বাঁচিয়ে রাখে। পাকস্থলীতে যদি উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে যায় তখন সেখানে ক্যান্সার বাসা বাঁধতে পারে।
ভিটামিন ডির জন্য দিনের কিছুটা সময় শরীরে রোদ লাগাতে হবে। এটা খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনাচরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যার শরীরের গঠন ভালো এবং সেখানে কোনো ঘাটতি থাকবে না, তার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বেশি হবে। শিশুকে জন্মের পর থেকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ালে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে।
নিয়মিত ভিটামিন বি ও সি-জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। শরীরের নার্ভের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এ দুই ধরনের ভিটামিন কাজ করে। শরীরের ভেতরে বিক্রিয়ার কারণে যেসব সেল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেগুলো সারিয়ে তুলতে কাজ করে ভিটামিন সি।
দুধ ও কলিজার মধ্যে ভিটামিন বি আছে। টকজাতীয় যেকোনো ধরনের ফল—লেবু, আমলকী, কমলা, বাতাবিলেবু ও পেয়ারায় ভিটামিন সি আছে।
ভাত বেশি খাওয়া যাবে না। একজন মানুষ প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার খাবেন, তার ৬০ শতাংশ হওয়া উচিত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা। এরপর ৩০ শতাংশ হতে হবে প্রোটিন এবং ৫ শতাংশের মতো থাকবে চর্বিজাতীয় খাবার।
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম
শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রমের সম্পর্ক আছে। একজন মানুষ যখন শারীরিক পরিশ্রম করে তখন শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করে। শরীরের মাংসপেশি ও হৃদযন্ত্র অনেক কার্যকর হয়। একই সঙ্গে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। ফলে শরীরের দূরতম প্রান্ত পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছায়। তখন শরীরের কোষগুলোয় শক্তি উৎপাদন শুরু হয়। সুতরাং প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির সম্পর্ক আছে।










