১৯৮০ সালের পর থেকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় এর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। বিশ্বে স্থূলকায় মানুষ বাড়ার পেছনেও এ রোগ কাজ করছে। কারণ এ রোগের ফলে মানুষের শারীরিক কার্যকলাপও কমে যাচ্ছে। ডায়াবেটিসে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যেও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। অকালমৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী, ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যুর পেছনের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল ডায়াবেটিস। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, স্বাভাবিক শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং তামাক ব্যবহার এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ডায়াবেটিস এবং এর জটিলতার একটি বড় অংশ প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
চিকিৎসার মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগীরা সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে। যেমন পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ, ওষুধ ও নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে জটিলতা অনেক কমানো যায়। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক কার্যকলাপ করা জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪২ কোটি ২০ লাখ মানুষের ডায়াবেটিস রয়েছে। ২০১৯ সালে ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগের কারণে ২০ লাখ মানুষ মারা গেছে।
ডায়াবেটিস মূলত দুই ধরনেরই বলা যায়। একটি হলো টাইপ ১ ডায়াবেটিস আর অন্যটি হলো টাইপ ২ ডায়াবেটিস। টাইপ ১ ডায়াবেটিস সাধারণত টাইপ ২ ডায়াবেটিস থেকে তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। একে জুভেনাইল ডায়াবেটিসও বলা হয়। কারণ সাধারণত যাদের অল্প বয়সে ডায়াবেটিস ধরা পড়ে তাদের মাঝেই টাইপ ১ ডায়াবেটিস হওয়ার প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যায়। টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধযোগ্য হলেও টাইপ ১ ডায়াবেটিসের কারণ এবং ঝুঁকির কারণগুলো এখনো অজানা এবং প্রতিরোধ কীভাবে করা যায় তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্বব্যাপী বেশির ভাগ মানুষ টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী। শিশুদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের রিপোর্ট, যা আগে বিরল ছিল, বিশ্বব্যাপী বেড়েছে।










