মিয়ানমারে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে মান্দালয়ের দক্ষিণে ৪০ কিলোমিটার দূরের কিয়াউকসে। সেখানে একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে খেলাধুলা ও পড়াশোনায় ব্যস্ত ছিল ৭০ জন শিশু। খবর বিবিসি।

ভাঙা ব্যাগ, ছড়িয়ে থাকা বই, খেলনা আর ভগ্ন চেয়ার-টেবিলের মধ্যে নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে ফিরছেন অসহায় বাবা-মায়েরা। পাঁচ বছর বয়সী থেত থেত সানের দাদু কিউ ন্যেইন কাঁদতে কাঁদতে জানান, তার নাতনির দেহ তিন ঘণ্টা পর খুঁজে পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের মতে, নিহতের সংখ্যা স্কুল কর্তৃপক্ষের দেয়া সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি।

উদ্ধারকাজে পুরো শহর এগিয়ে এলেও, সরকারি উদ্যোগের অভাব চোখে পড়ার মতো। রাজধানী নেপিডোতে ভূমিকম্পে সরকারি ভবন ধসে পড়লেও কোনো উদ্ধারকাজ দেখা যায়নি। রক্তের দাগ আর দুর্গন্ধে বোঝা যাচ্ছিল, ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন।

রাজধানীর সবচেয়ে বড় হাসপাতালটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি বিভাগের ছাদ ধসে পড়েছে, আহতদের তাঁবুর নিচে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে মানুষ গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছে, কারণ আফটারশকের ভয়ে তারা ভবনের ভেতরে যেতে পারছে না।

এদিকে, মান্দালয় পুরো শহরটিই অন্ধকারে নিমজ্জিত। বিদ্যুৎ নেই, পানির সরবরাহ বন্ধ। ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কতটা ভয়াবহ, তা পুরোপুরি স্পষ্ট হতে সময় লাগবে। তবে এটি স্পষ্ট যে, দেশজুড়ে এক গভীর মানবিক সংকটের শুরু হয়েছে।