আফগানিস্তানের পাকটিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় পাকিস্তানের একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী এবং শিশুরাও রয়েছে। এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে সাতটি গ্রামে এই হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে লামান গ্রামে এক পরিবারেই নিহত হয়েছেন পাঁচ সদস্য। খবর এএফপি ।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের এই বোমা হামলায় বারমালের মুর্গ বাজার গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যা চলমান মানবিক সংকটকে আরো গভীর করেছে।

এই বিমান হামলায় ঘটেছে ব্যাপক বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসযজ্ঞ। এতে ওই অঞ্চলের উত্তেজনা আরো বেড়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান থাকলেও হামলার বিস্তারিত তথ্য এবং দায় নিশ্চিত করার জন্য আরো তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে আফগান সংবাদ সংস্থা খামা প্রেস।

পাকটিকার বারমালে বিমান হামলার পর তালেবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাল্টা প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ভূমি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বৈধ অধিকার তাদের আছে এবং এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তারা। তালেবান বলেছে, ওয়াজিরিস্তানি শরনার্থীসহ নিরীহ মানুষ এই হামলায় হতাহত হয়েছে।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিমান হামলার কথা স্বীকার না করলেও সংশ্লিষ্ট সামরিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, এই আক্রমণ তালেবান আস্তানাগুলোকে লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছিল।

সম্প্রতি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে পাকিস্তানি জঙ্গিদের আফগানিস্তানে উপস্থিতি নিয়ে। পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর হামলা বাড়িয়েছে। এ ব্যাপারে পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালেবান তাদের সীমান্ত প্রদেশগুলোতে টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে।

তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়তুল্লাহ খোয়ারাজমি পাকিস্তানের দাবি অস্বীকার করে এক্স-এ পোস্ট করে বলেছেন, বেসামরিক মানুষ যাদের বেশিরভাগই ওয়াজিরিস্তানি শরণার্থী, এই বিমান হামলায় নিহত হয়েছে।

খোয়ারাজমি আরো বলেন, কয়েকজন শিশু এবং অন্যান্য বেসামরিক মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছে এই হামলায়। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র মতে, অন্তত ১৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। উদ্ধার প্রচেষ্টা চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ওয়াজিরিস্তানি শরণার্থীরা মূলত পাকিস্তানের উপজাতীয় এলাকায় সামরিক অভিযানের কারণে বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিক। তবে পাকিস্তানের দাবি, টিটিপির অনেক কমান্ডার ও যোদ্ধা আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়েছে এবং সেখানকার সীমান্ত প্রদেশগুলোতে আফগান তালেবানের আশ্রয়ে রয়েছে।