নেপালের সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহকে স্বাগত জানাতে হাজারো মানুষ রাজধানী কাঠমান্ডুতে জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে তারা রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবি জানান। খবর আল জাজিরা।

গতকাল রোববার (৯ মার্চ) প্রায় ১০ হাজার সমর্থক ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে জড়ো হন, সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্রর প্রতি ‘দেশ বাঁচানোর’ আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেন। তবে দাঙ্গা পুলিশ তাদের বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা দেয়।

৭৭ বছর বয়সী জ্ঞানেন্দ্র ২০০১ সালে সিংহাসনে বসেন। সে সময় তার বড় ভাই রাজা বীরেন্দ্র এবং রাজপরিবারের বেশিরভাগ সদস্য এক হত্যাকাণ্ডে নিহত হন। তিনি সংবিধানিক রাজা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ২০০৫ সালে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দেশ শাসন করেন। এর ফলে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়, যা তাকে ২০০৬ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য করে।

২০০৮ সালে নেপালের সংসদ ২৪০ বছরের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে দেশকে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করে। কিন্তু এরপর থেকে দেশটিতে ১৩টি সরকার পরিবর্তন হয়েছে। অনেক নেপালি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে হতাশ।

প্রতিবাদে অংশ নেয়া অনেকে মনে করছেন, রাজতন্ত্র পুনর্বহাল করলে দেশ স্থিতিশীল হবে। একসময় রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়া ৫০ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রী কুলরাজ শ্রেষ্ঠ বলেন, আমি মনে করেছিলাম গণতন্ত্র দেশের উন্নতি করবে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি আমি ভুল করেছিলাম।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা খুব কম। কারণ হিসেবে তারা বলেন, অতীতেও অস্থিরতার কারণ ছিল রাজতন্ত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষক লোক রাজ বরাল বলেন, রাজনীতিকদের ব্যর্থতা ও স্বার্থপরতার কারণে অনেক মানুষ হতাশ হয়ে রাজতন্ত্রের দিকে ফিরে তাকাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত জ্ঞানেন্দ্র শাহ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।