মিয়ানমারে শুক্রবার ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত দেশটির বিমানবন্দর, সেতু এবং মহাসড়ক। এরইমধ্যে গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত অর্থনীতি এবং বাস্তুচ্যুত লক্ষ লক্ষ মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দারা এখন সাহায্যের জন্য মরিয়া। তারা জানিয়েছেন, কোনো সাহায্য আসছে না। খবর রয়টার্স।
শুক্রবারের ভূমিকম্পে মান্দালয়ের সমতলভূমি থেকে পূর্বের শান পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—যার কিছু অংশ সম্পূর্ণরূপে জান্তার নিয়ন্ত্রণে নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেন, অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছে, কিন্তু কোনো সাহায্য আসছে না। কারণ এখানে পর্যাপ্ত লোকবল, যন্ত্রপাতি বা যানবাহন নেই।
মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে খালি হাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছেন।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ১,০০০ কিলোমিটার দূরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের চিত্র ভিন্ন। সেখানে শনিবার উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া নির্মাণ শ্রমিকদের খুঁজতে এক্সকাভেটর, ড্রোন এবং উদ্ধারকারী কুকুর ব্যবহার করছে।
থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চর্নভিরাকুল বলেন, বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং মৃতদের খুঁজে বের করতে আমরা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করছি। এখনো আশা হারাইনি এবং কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
৩৯ বছর বয়সী চানপেন কাওনোই জানান, শুক্রবার দুপুরে তিনি খবরের মাধ্যমে জানতে পারেন যে নির্মাণাধীন ভবনটি ধসে পড়েছে, যেখানে তার মা এবং ছোট বোন কাজ করছিলেন। তিনি বলেন, আমি আমার বোনকে ফোন করেছি, কিন্তু যতবার চেষ্টা করেছি, কোনো সংযোগ পাইনি। আমি আমার মা আর বোনের জন্য অপেক্ষা করতে চাই। আমি আবার তাদের মুখ দেখতে চাই।
থাইল্যান্ডের ইঞ্জিনিয়ারিং কাউন্সিলের বোর্ড সদস্য আনেক সিরিপানিচগর্ন জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ব্যাংককের প্রায় ৫,০০০ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার মধ্যে আবাসিক ভবনও রয়েছে।










