ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি ২৭ বছর পর প্রথমবারের মতো ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৭০ আসনের দিল্লি বিধানসভায় ৪৮টি আসনে জয়ী হয়েছে বা এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আম আদমি পার্টি (এএপি) ২২টি আসনে এগিয়ে। যে দল ৩৫টির বেশি আসন জিতবে, তারা সরকার গঠন করতে পারবে। খবর বিবিসি।

নির্বাচনের ফল পেয়ে দলকে স্বাগত জানিয়েছেন মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে তিনি বলেন, জয় হয়েছে উন্নয়ন ও সুশাসনের। অভিনন্দন আমার সব ভাই-বোনদের, যারা বিজেপিকে ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছেন। সবার প্রতি আমার অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা।

মোদি বলেন, আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, দিল্লির সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। একটি উন্নত ভারত গঠনে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিশ্চিত করব আমরা।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক্সে এক পোস্টে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দিল্লির হৃদয়ে আছেন। ভোটাররা কেজরিওয়ালের শীষ মহল ধ্বংস করে দিয়েছেন। দিল্লি তাদের শিক্ষা দিয়েছে, যারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি যারা দেয়, তাদের জন্য এটি একটি উদাহরণ।

এক্সে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় পরাজয় মেনে নিয়ে দিল্লির এক যুগের মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, আজ দিল্লি নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা জনগণের রায় মেনে নিচ্ছি। জনগণের সিদ্ধান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপিকে জয়ের জন্য অভিনন্দন। আশা করছি, তারা জনগণের আশা-প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করবে।

এই নির্বাচন বিজেপি ও এএপি উভয়ের জন্যই মর্যাদার লড়াই ছিল কারণ, দিল্লি ভারতের রাজধানী হিসেবে প্রতীকীভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি ২০১৩ সালে ২৮টি আসন জিতে প্রথমবার দিল্লির ক্ষমতায় আসে। ২০১৫ সালের নির্বাচনে ৬৭টি আসন জিতে রেকর্ড গড়ে এএপি। ২০২০ সালের নির্বাচনে ৬২টি আসন জিতে দারুণভাবে বিজয়ী হয়। অন্যদিকে, বিজেপি ২০১৫ সালে মাত্র ৩টি আসন এবং ২০২০ সালে ৮টি আসন পেয়েছিল। ২০২০ সালে এএপি ও বিজেপির মধ্যে ভোট শেয়ার ফারাক ছিল ১৫ শতাংশ।

নিজ আসন নয়াদিল্লিতে বিজেপির প্রবেশ ভার্মার কাছে হেরেছেন কেজরিওয়াল। এক দশক ধরে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর আসনটি ধরে রেখেছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ২০১৩ সালে কংগ্রেসের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতকে পরাজিত করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি।

বিজেপির জন্য দিল্লি দখল শুধু একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়— এটি জাতীয় রাজধানীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করারও ইঙ্গিত, যেখানে তারা ১৯৯৮ সালের পর থেকে ক্ষমতার বাইরে ছিল।

বিজেপি দিল্লি নির্বাচনে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।

জাতীয় পর্যায়ে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, তবে একটি আসনও জিততে পারেনি।