ভারতের উত্তর প্রদেশে কুম্ভমেলায় পদদলিতের ঘটনায় প্রায় ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো অনেকে। গতকাল বুধবার (২৯ জানুয়ারি) পুলিশের তিনটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মৌনী অমাবস্যায় ‘অমৃত স্নান’ করার সময় হুড়োহুড়ির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ বলেছে, বিশ্বের বৃহত্তম এই সমাবেশে পদদলিত হয়ে ৩০ জন মারা গেছেন এবং ৯০ জন আহত হয়েছেন, তবে রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪০। কিছু প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক মানুষের স্রোতে ভক্তরা একে অপরের ওপর পড়ে যান। অনেকে বলেছেন, নদীর দিকে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশাল ভিড় স্থবির হয়ে গেলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মানুষ মারা যায়।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, সরকার এই ঘটনার বিচারিক তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর জন্য আমরা একটি তিন সদস্যের বিচারিক কমিশন গঠন করেছি। তিনি বলেন, বিচারিক কমিশন পুরো বিষয়টি তদন্ত করে একটি সময়সীমার মধ্যে রাজ্য সরকারকে প্রতিবেদন জমা দেবে।

বিরোধী নেতারা এই পদদলিত হওয়ার ঘটনাকে ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বলে দায়ী করেছেন এবং সরকারকে উৎসবের ব্যবস্থা উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় মিডিয়া বৃহস্পতিবার বলেছে যে, এমন ঘটনা রোধ করতে ভিড় ব্যবস্থাপনা উন্নত করা প্রয়োজন।

কর্তৃপক্ষ বলেছে, বুধবার সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে তিনটি নদীর সঙ্গমস্থলে ৭ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ জড়ো হন। দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই উৎসবে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৮ কোটি মানুষ অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, শিল্পপতি এবং সেলিব্রিটিরা।

হিন্দু উৎসবটি প্রতি ১২ বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয় এবং ২০২৫ সালে প্রায় ৪০ কোটি ভক্তের সমাগম হবে বলে কর্তৃপক্ষ অনুমান করছে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, গঙ্গা, যমুনা এবং পৌরাণিক সরস্বতী নদীর সঙ্গমস্থলে ‘পুণ্যস্নান’ করলে তাদের পাপ মোচন হয় এবং জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি মেলে।