মেটা ছাড়তে যাচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশেষজ্ঞ ইয়ান লেকুন। মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী ও আধুনিক এআই গবেষণার এ পথিকৃৎ নিজস্ব স্টার্টআপ গড়ার পরিকল্পনা করছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সম্মানজনক এ.এম. টিউরিং পুরস্কারপ্রাপ্ত লেকুন এরইমধ্যে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলছেন। তার নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হবে ‘ওয়ার্ল্ড মডেল’ প্রযুক্তি বিকাশ। এ প্রযুক্তিতে এমন এক ধরনের এআই তৈরি করা হবে, যা নিজের পরিবেশ বুঝে সম্ভাব্য ফলাফল পূর্বাভাস দিতে ও বাস্তব পরিস্থিতি অনুকরণ করতে পারবে।

গুগল ডিপমাইন্ড ও ওয়ার্ল্ড ল্যাবসের মতো শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। লেকুনের প্রস্থান মেটার জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটি ওপেনএআই, গুগল ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তাল মেলাতে নিজেদের এআই কৌশল নতুনভাবে সাজাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি ৫০ জনেরও বেশি প্রকৌশলী ও গবেষক নিয়োগ দিয়ে ‘মেটা সুপারইনটেলিজেন্স ল্যাবস (এমএসএল)’ নামে নতুন একটি ইউনিট গঠন করেছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটি।

নতুন ইউনিটের নেতৃত্বে প্রধান নির্বাহী আলেকজান্ডার ওয়াংকে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি স্কেল এআইয়ে ১ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। তবে এসব পরিবর্তন কোম্পানির অভ্যন্তরে কিছু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে বলেও জানিয়েছে একাধিক সূত্র। এর ফলে লেকুনের দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বিভাগ মেটার ‘ফান্ডামেন্টাল এআই রিসার্চ ল্যাব’ (ফেয়ার)-এর কার্যক্রমও প্রভাবিত হয়েছে।

ইয়ান লেকুন মনে করেন, বর্তমান লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো (এলএলএম) নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদ বাস্তবসম্মত নয়। এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান এআই নিয়ন্ত্রণের আগে অন্তত একটা বিড়ালের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান সিস্টেম তৈরি করা দরকার।’

মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী বলছেন, এআই প্রযুক্তির এত অগ্রগতির পরও সবচেয়ে উন্নত এলএলএম এখনো একটি চার বছরের শিশুর সমানও বুদ্ধিমান নয়।

মেটা এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।