অ্যাপলের এয়ারপডস শুধু ডিজাইন বা ফিচারের জন্য নয়, এর উজ্জ্বল সাদা রঙের কারণেও সহজে চিনে ফেলা যায়। যদিও এখন অ্যাপল কিছু পণ্য যেমন এয়ারপডস ম্যাক্স (হেডফোন), আইম্যাক ও আইফোনের রঙে বৈচিত্র্য এনেছে, তবুও মূল এয়ারপডস ও এয়ারপডস প্রো শুধু সাদা রঙেই পাওয়া যায়। প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, অ্যাপল নিজেদের ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং কৌশলের একটি অংশ হিসেবেই সাদা রঙের ধারাবাহিকতা ইচ্ছাকৃত ধরে রেখেছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট স্ল্যাশগিয়ার বলছে, এয়ারপডস সাদা রাখার বিষয়টি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি অ্যাপলের শক্তিশালী ব্র্যান্ড পরিচিতি ধরে রাখার একটি কৌশল। ২০০১ সালে অ্যাপল যখন প্রথম আইপড বাজারে আনে, তখন এর সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে সাদা ইয়ারবাডস দেয়া হয়। কারণ আইপডটি ছিল ছোট এবং এর অ্যাপল লোগোটি সহজে চোখে পড়ত না। তাই অ্যাপল সাদা ইয়ারবাড ও তার ব্যবহার করে পণ্যের দৃশ্যমানতা বা উপস্থিতি বাড়িয়েছিল। ফলে জনসম্মুখে এটি সহজেই নজরে আসে এবং ব্যবহারকারীরা এক রকম ‘চলমান বিজ্ঞাপন’-এ পরিণত হয়।
অ্যাপলের পণ্যকে সহজে নজরে আনার কৌশলটি বেশ সফল হয়েছিল। এ সফলতার পেছনে বড় কারণ ছিল কোম্পানির বিখ্যাত সিলুয়েট অ্যাড বা ছায়া বিজ্ঞাপন প্রচার। এসব বিজ্ঞাপনে শুধু সাদা ইয়ারবাড আর আইপড দেখা যেত, যা মানুষের চোখে পড়ত এবং তাদের মনে গেঁথে যেত। তখন থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিটি প্রজন্মের এয়ারপডস পরিচিত সেই সাদা রঙেই বাজারে আসছে। এ বিশেষত্ব প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় অ্যাপলকে সহজে আলাদা করে চিনে নিতে সাহায্য করে। যখন অন্য কোম্পানিগুলো রঙ ও ডিজাইনে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, তখন অ্যাপল এয়ারপডস সাদা রেখেই প্রিমিয়াম মান, অন্যান্য অ্যাপল ডিভাইসের সঙ্গে সহজ সংযোগ ও একটি বিশেষ মর্যাদার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করে। এমনকি নয়েজ ক্যানসেলেশন ও উন্নত ব্যাটারি লাইফের মতো নতুন ফিচার যোগ হলেও, এর চেনা পরিচিতি চেহারা একদম একই রয়েছে।
যদিও এয়ারপডসে সাদা রঙ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প না থাকায় অনেক ব্যবহারকারীর মধ্যে কিছুটা অসন্তুষ্টি আছে। তবে এ সীমাবদ্ধতাই তৈরি করেছে নতুন এক অ্যাকসেসরিজের বাজার। এখন অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রঙিন কেস, ডিজাইন করা স্টিকার, এমনকি ওয়্যারলেস এয়ারপডসের জন্য ওয়্যার বা তারও বিক্রি করছে।
মজার ব্যাপার হলো, অ্যাপল সাদা ইয়ারবাডসের রঙকে ট্রেডমার্ক করেনি। অর্থাৎ চাইলে অন্য কোম্পানিও তা ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু বেশির ভাগ প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি তা করে না, বরং কালো বা ট্রেন্ডি রঙের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে অ্যাপলের সাদা ইয়ারবাডসের স্বতন্ত্রতা বজায় থাকে।
সারকথা হলো অ্যাপল এয়ারপডসকে সাদা রাখে, কারণ এটি কার্যকর একটি কৌশল। এটি শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এ রঙ অ্যাপলের ব্র্যান্ডকে সহজেই চোখে পড়তে ও বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে সারা বিশ্বে এয়ারপডস চেনা যায় এক রঙে।
—স্ল্যাশগিয়ার অবলম্বনে










