সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংযুক্ত করার নতুন প্রতিযোগিতা। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এ দৌড়ে নামলেও শুরুটা হয়েছে বেশ অগোছালোভাবে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমের নতুন এ যুগে ব্যবহারকারীর ফিড ভরে উঠছে এআই–তৈরি অদ্ভুত ও অপ্রত্যাশিত কনটেন্টে।
চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের সোরা অ্যাপ সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা এআই নির্মিত একটি–দৃশ্য শেয়ার করছেন। এক ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি শিশু ভয়ংকর ডাইনোসর টি-রেক্সের কাছ থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াচ্ছে, পেছনে বাজছে লেডি গাগার গান। আবার কোথাও দেখা গেছে, পুলিশ ম্যাকারনি–চিজের একটি স্তূপকে গ্রেফতার করছে। এসব দৃশ্য এখন সোরার মতো এআইচালিত প্লাটফর্মে সাধারণ হয়ে উঠছে।
এদিকে মেটা চালু করেছে ভাইবস নামের একটি নতুন ফিচার, যা টিকটকের মতো ছোট ভিডিও ফিড প্রদর্শন করে। ইনস্টাগ্রামেও এখন এআই পারসোনা বা ভার্চুয়াল চরিত্রের সঙ্গে সরাসরি মেসেজে কথা বলা যায়। একইভাবে এআই অ্যালাইভ টুলের মাধ্যমে মাত্র একটি কমান্ডে ছবি থেকে ভিডিও বানানোর সুযোগ দিয়েছে টিকটক।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই–চালিত সামাজিক মাধ্যমের উদ্যোগগুলো ইন্টারনেটের পরবর্তী যুগকে নির্ধারণ করতে পারে। তবে এর সঙ্গে জুড়ে গেছে নানা বিতর্ক, বিশেষ করে কপিরাইট লঙ্ঘন ও ভুয়া কনটেন্ট তৈরির ঝুঁকিসংক্রান্ত আলোচনা এখন বাড়ছে।
মোশন পিকচার অ্যাসোসিয়েশনের সিইও চার্লস রিভকিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ওপেনএআইয়ের প্লাটফর্মে এখন এমন বহু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে, যেগুলো আমাদের সদস্যদের সিনেমা, সিরিজ ও চরিত্রের কপিরাইট লঙ্ঘন করছে।’
ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান এক ব্লগপোস্টে জানান, কপিরাইটধারীদের জন্য তারা শিগগিরই আরো বিস্তারিত নিয়ন্ত্রণ সুবিধা আনবে। এছাড়া কোম্পানি মুনাফা ভাগাভাগির একটি মডেলও বিবেচনা করছে। এখন থেকে কপিরাইটযুক্ত চরিত্র যেমন পিকাচু বা স্পঞ্জবব ব্যবহার করে ভিডিও বানাতে চাইলে একটি ত্রুটিবার্তা দেখা যাবে, যেখানে জানানো হবে বিষয়টি তৃতীয় পক্ষের কনটেন্টের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে।
তবে এসব নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ৪০৪ মিডিয়া বলেছে, সোরার ভিডিও থেকে সহজেই ওয়াটারমার্ক মুছে ফেলা যায়। ফলে ভিডিওটি এআই–নির্মিত কিনা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
ওপেনএআই বলছে, তারা সি২পিএ মেটাডাটা ব্যবহার করছে, যা ভিডিওর উৎস শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
এদিকে এআই–চ্যাটবট নিয়ে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়েও আশঙ্কা বাড়ছে। কিছু মামলা হয়েছে ‘ক্যারেক্টারডটএআই’ অ্যাপকে ঘিরে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে বটটি কিশোর ব্যবহারকারীদের আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, সোরায় কিশোরদের সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং প্রাপ্তবয়স্করা কিশোরদের সঙ্গে বার্তা শুরু করতে পারবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যম ও এআইয়ের এ মিশ্রণ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো চেষ্টা করছে নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল প্লাটফর্মকে একই সঙ্গে আকর্ষণীয় ও নিরাপদ করে তুলতে। তবে এখন পর্যন্ত ফলাফল অনেকটাই বিশৃঙ্খল ও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।










