যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনে জনপ্রিয় এইচ২০ এআই চিপ রফতানি সীমিত করায় প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়বে এনভিডিয়া। গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে চিপ নির্মাতা কোম্পানিটি এমন আশঙ্কার কথা জানায়। চীন এইচ২০ চিপের অন্যতম বড় বাজার হওয়ায় বিক্রি সীমিত হওয়ার ফলে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা আসছে বলে আশঙ্কা করছে এনভিডিয়া। খবর রয়টার্স।

প্রতিবেদন বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিযোগিতায় চীনকে সামনে এগোতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য দেশটির সরকার চীনে উন্নতমানের এআই চিপ রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এ নিয়ম মানতে গিয়ে এনভিডিয়া পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে পুরনো চিপ বিক্রি করতে পারছিল না। ফলে কোম্পানিটি আইনের গণ্ডির ভেতরে থেকেই যতটা সম্ভব শক্তিশালী চিপ বানাতে শুরু করে, যেন চীনে কিছুটা হলেও রফতানি চালিয়ে যাওয়া যায়।

মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের এক মুখপাত্র গত মঙ্গলবার রাতে জানান, এনভিডিয়ার এইচ২০, এএমডির এমআই৩০৮ এবং এ ধরনের অন্যান্য এআই চিপ রফতানির জন্য এখন থেকে নতুন লাইসেন্স লাগবে। সরকারের অনুমতি ছাড়া এসব চিপ আর আগের মতো সরাসরি রফতানি করা যাবে না।

মার্কিন রফতানি নিয়ন্ত্রণ তদারককারী বাণিজ্য দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্যই উন্নত প্রযুক্তি রফতানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।’

চীনের বাজারে বিক্রির জন্য এনভিডিয়ার সবচেয়ে উন্নত চিপ হলো এইচ২০। দেশটির দ্রুতবর্ধনশীল এআই খাতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এনভিডিয়ার জন্য চিপটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে চীনের টেনসেন্ট, আলিবাবা ও টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স এইচ২০ চিপের ক্রয়াদেশ বাড়াতে শুরু করে। কারণ ডিপসিকের মতো স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান সাশ্রয়ী মূল্যের এআই মডেলের চাহিদা দ্রুত বাড়িয়ে তোলে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে রফতানি বিধিনিষেধ হালনাগাদ করে যুক্তরাষ্ট্র।