কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চ্যাটবটের বাজারে মোবাইল অ্যাপ থেকে সবচেয়ে বেশি আয়ের রেকর্ড গড়েছে চ্যাটজিপিটি। ২০২৩ সালের মে মাসে চালুর পর থেকে অ্যাপটি এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে আয় করেছে ২০০ কোটি ডলার। প্রতি ইনস্টলে মোবাইল অ্যাপটির আয় হয় প্রায় ৩ ডলার। অ্যাপের বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অ্যাপফিগারস জানিয়েছে, এ আয় চ্যাটজিপিটির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাউড, কোপাইলট ও গ্রোকের সম্মিলিত আয়ের তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বেশি। খবর টেকক্রাঞ্চ।
অ্যাপফিগারসের তথ্যানুযায়ী, শুধু চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই চ্যাটজিপিটির অ্যাপ আয় করেছে ১৩৫ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের (জানুয়ারি-জুলাই) তুলনায় ৬৭৩ শতাংশ বেশি। গত বছরের একই সময় আয় ছিল ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অন্যদিকে গত বছর যেখানে চ্যাটজিপিটির মাসে গড়ে আয় হয়েছিল ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, এ বছর সে অংক দাঁড়িয়েছে মাসে প্রায় ১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
এর তুলনায় এক্সএআইয়ের গ্রোক নামের চ্যাটবট এখন পর্যন্ত আয় করেছে মাত্র ২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার, যা চ্যাটজিপিটির মাসিক আয়ের মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ। ক্লাউড ও মাইক্রোসফটের কোপাইলটও আয়ের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
অ্যাপফিগারসের তথ্য বলছে, শুধু আয় নয়, ব্যবহারকারীদের আগ্রহের ক্ষেত্রেও এগিয়ে আছে চ্যাটজিপিটি। প্রতিটি ইনস্টল থেকে মোবাইল অ্যাপটি গড়ে আয় করছে ২ ডলার ৯১ সেন্ট। যেখানে ক্লাউডের আয় ২ ডলার ৫৫ সেন্ট, গ্রোকের ৭৫ সেন্ট আর কোপাইলটের ২৮ সেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ইনস্টল থেকে আয় আরো বেশি, ১০ ডলার। দেশটি একাই চ্যাটজিপিটির মোট আয়ের ৩৮ শতাংশের জোগান দিয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে আছে জার্মানি, ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
ডাউনলোড সংখ্যায়ও শীর্ষে রয়েছে চ্যাটজিপিটি। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অ্যাপটি ডাউনলোড হয়েছে আনুমানিক ৬৯ কোটিবার। অন্যদিকে গ্রোকের ডাউনলোড সংখ্যা ৩ কোটি ৯৫ লাখ। শুধু ২০২৫ সালেই চ্যাটজিপিটি ডাউনলোড হয়েছে ৩১ কোটি ৮০ লাখ বার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮ গুণ বেশি। ডাউনলোড সংখ্যায় শীর্ষে আছে ভারত (১৩ দশমিক ৭ শতাংশ), দ্বিতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্র (১০ দশমিক ৩ শতাংশ)।
যদিও এ তথ্য কেবল মোবাইল অ্যাপ থেকে আয়ের হিসাব, তবু এটি ব্যবহারকারীদের কাছে এআই অ্যাপের জনপ্রিয়তা বোঝার অন্যতম সূচক। অনেকে ওয়েবসাইট বা এপিআইয়ের মাধ্যমেও এসব সেবা ব্যবহার করে থাকেন। ফলে প্রকৃত আয় আরো বেশি।
এদিকে গ্রোক ২০২৩ সালের নভেম্বরে চালু হলেও শুরুতে শুধু ‘এক্স’ প্লাটফর্মেই ব্যবহার করা যেত। ২০২৫ সালের শুরুতে আইওএস ও মার্চে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ চালু করা হয়। এ কারণেও গ্রোক ব্যবহারকারীর দিক থেকে পিছিয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।









