কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিওর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। সহজেই বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় এখন ভুয়া বা ডিপফেক ভিডিওর ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এমন পরিস্থিতিতে ধনকুবের ইলোন মাস্ক জানিয়েছেন, তার সংস্থা এক্সএআইয়ের চ্যাটবট গ্রোক উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ফেক ভিডিও শনাক্ত ও তার উৎপত্তি নির্ণয় করতে পারবে। খবর ইন্ডিয়া টুডে।

এক্স প্লাটফর্মে সম্প্রতি এক ব্যবহারকারী সতর্ক করে লেখেন, ‘ভিডিও তৈরির প্রযুক্তি এত দ্রুত এগোচ্ছে। শিগগিরই কেউ চাইলে অন্যের অনুমতি ছাড়াই তাদের ডিপফেক ভিডিও বানিয়ে ছড়িয়ে দিতে পারবে। এ বিষয়ে এখনো কোথাও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।’

পোস্টটির জবাবে ইলোন মাস্ক জানান, তার কর্মীবাহিনী এমন এক প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা গ্রোক ব্যবহার করে ভিডিওর বিটস্ট্রিম বিশ্লেষণ করে সেটি এআই নির্মিত কিনা তা শনাক্ত করতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘গ্রোক ভিডিওর বিটস্ট্রিমে থাকা এআই সিগনেচার খুঁজে বের করবে ও ইন্টারনেট ঘেঁটে সে ভিডিওর উৎসও নির্ধারণ করবে।’

এরপর গ্রোক নিজেও মাস্কের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানায়। এআই বটটি জানায়, তারা ভিডিওর ভেতরে থাকা সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য বা অদৃশ্য সংকেত শনাক্ত করতে পারবে, যা মানুষের চোখে ধরা পড়বে না। যেমন কমপ্রেশন বা জেনারেশন প্যাটার্নের অসংগতি। এসব বিশ্লেষণের পর গ্রোক নিজের ডাটাবেজ ও অনলাইন সূত্র ঘেঁটে ভিডিওটির প্রামাণ্যতা যাচাই করবে।

ইলোন মাস্ক বলছেন, প্রযুক্তিটি চালু হলে ভুয়া কনটেন্টের বিস্তার অনেকটা রোধ করা যাবে। এতে ব্যবহারকারীরা আবারো ভিডিওর ওপর আস্থা ফিরে পাবেন।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি অনেকেই এসব ভুয়া ভিডিওকে ‘এআই স্লপ’ নামে ডাকছেন। কারণ এগুলো সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ায় ও তথ্য বিকৃত করে।

এর আগে ওপেনএআই তাদের ভিডিও তৈরির অ্যাপ ‘সোরা’ প্রকাশের পর অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া এআই তৈরি ভিডিওর পরিমাণ বেড়ে যায়। সমালোচনার মুখে প্রতিষ্ঠানটি পরে অ্যাপটির ক্যামিও মোডে নতুন সেটিংস যোগ করে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেই ঠিক করতে পারেন যে তাদের চেহারা যেন অন্য কেউ নিজের ভিডিওতে ব্যবহার করতে না পারে।