বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে প্রায়ই দেখা যায়, প্রযুক্তি মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। খারাপ রোবট, মারাত্মক রশ্মি কিংবা ল্যাবে তৈরি ভয়ংকর দানব। প্রযুক্তির প্রতি মানুষের ভয় ও প্রত্যাশা বিনোদনের মাধ্যমে প্রকাশ করে এমন গল্প। তবে বাস্তব জীবনে প্রযুক্তি আসলে কাজকে সহজ করতেই তৈরি হয়। প্রতিটি নতুন উদ্ভাবন জীবনের ঝামেলা কমাতে বা দৈনন্দিন কাজকে আরো আরামদায়ক করতে সহায়ক হয়। যেমন উড়োজাহাজ উদ্ভাবনের ফলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে দ্রুত যাওয়া সম্ভব হয়েছে। ইন্টারনেট তথ্য বিনিময় ও যোগাযোগে সময় বাঁচিয়েছে। জিপিএসের কারণে গাড়ির গ্লাভ বক্সে আর বড় মানচিত্র রাখার দরকার হয় না।

যদিও প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে জীবন সহজ হওয়ার কথা। কিন্তু সবসময় তা হয় না। তখনই দেখা দেয় জটিলতা। কখনো কখনো নতুন উদ্ভাবনগুলো এমন আচরণ করে বসে, যা মানুষ আশাও করে না। এটি হতে পারে প্রযুক্তির নিজস্ব ত্রুটির কারণে, কারো খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কারণে কিংবা ব্যবহারকারীর ভুলের ফলে। এমন কিছু ঘটনা তুলে ধরেছে স্ল্যাশগিয়ার—

শিশুকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে বলে অ্যালেক্সা

করোনা মহামারীর সময় সবাই বেশির ভাগ সময় ঘরে বসেই কাটিয়েছে। বাইরে গিয়ে খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুদের জন্য বিনোদনের নতুন উপায় খুঁজে বের করতে হয় অভিভাবকদের। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের ঘটনা। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এক মা ও তার ১০ বছর বয়সী মেয়ে ঘরে বসে সময় কাটানোর জন্য অ্যামাজনের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘অ্যালেক্সা’-কে চ্যালেঞ্জ দেয়ার মতো গেম সাজাতে বলেন। কিন্তু অ্যালেক্সা যে পরামর্শ দেয়, তা ছিল ভয়ংকর। একটি চার্জার আউটলেটে অর্ধেক ঢুকিয়ে তাতে পয়সা ছোঁয়াতে বলে ডিজিটাল সহকারীটি। কিন্তু মায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও শিশুটির সচেতনতায় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। এ ধরনের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট অনেক সময় ইন্টারনেট ঘেঁটে সবচেয়ে জনপ্রিয় তথ্যগুলো তুলে ধরে। কিন্তু যদি ক্ষতিকর কোনো বিষয় অনলাইনে খুব জনপ্রিয় হয়ে যায়, সেটাও তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে জানাতে পারে।

রোবটের হাতে মানুষের মৃত্যু

‘টার্মিনেটর’ বা ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’-এর মতো সিনেমায় দেখা রোবটগুলো আসলে কল্পবিজ্ঞানেরই অংশ। তবে বাস্তবেও রোবট মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছিল বহু আগে। ১৯৭৯ সালের দিকে। সায়েন্স ডেইলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় রবার্ট উইলিয়ামস ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ড মোটর কোম্পানির কর্মী। তিনি একটি ভারী রোবটের সঙ্গে একই ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন, যার কাজ ছিল যন্ত্রাংশ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো। ১৯৭৯ সালের ২৫ জানুয়ারি, রোবটটি ধীরে কাজ করছিল দেখে উইলিয়ামস নিজেই র‍্যাকে উঠে যন্ত্রাংশ নিতে যান। তখনই রোবটের বাহু তার মাথায় আঘাত করে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনাই ছিল রোবট দ্বারা ঘটিত প্রথম প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।

বর্তমানে উন্নত বিশ্বে রোবটের ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে এবং মানুষ-রোবট একসঙ্গে কাজ করছে। ফলে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে রোবটকে আরো বুদ্ধিমান ও পরিবেশ সচেতন করতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।

জিপিএসের ভুল নির্দেশনায় হ্রদে পড়েন নারী

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থান শনাক্ত করে রিয়াল টাইমে দিকনির্দেশনা দেয় জিপিএস প্রযুক্তি। তবে সবসময় এটি সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারে না, বিশেষ করে খারাপ আবহাওয়া বা অপরিচিত এলাকায়।

২০১৬ সালে কানাডার অন্টারিওর টোবারমোরিতে এমনই এক ঘটনায় গাড়ি চালিয়ে সরাসরি হ্রদের পানিতে পড়ে যান এক নারী। ঘটনার সময় ছিল ঘন কুয়াশা ও ঝড়ের রাত। আশপাশের জায়গা চিনতেন না বলে তিনি পুরোপুরি জিপিএসের ওপর নির্ভর করেন। তবে সৌভাগ্যবশত তিনি জানালা খুলে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

ভুল সংকেতে শুরু যুদ্ধের উপক্রম

স্নায়ুযুদ্ধের সময় শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রের আগাম সতর্কতার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭৯ সালের এক রাতের ঘটনা। এসব সতর্কতা ব্যবস্থা দেখাল, হাজারো ক্ষেপণাস্ত্র আসছে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তখন প্রেসিডেন্টকে দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জানাতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পরে দেখা গেল, এটি একটি ভুল সংকেত ছিল। সিস্টেমে আসলে প্রশিক্ষণ ভিডিওর কপি চলে এসেছিল, যা ভুল সতর্কতা দেখায়।