বৈশ্বিক স্মার্ট হোম বাজারের আকার চলতি বছর ১৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়াবে। ২০৩৫ সাল নাগাদ বাজারটির আকার দাঁড়াবে ১ দশমিক শূন্য ৩ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৩ হাজার কোটি ডলারে। আগামী ১০ বছরে স্মার্ট হোম বাজারের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার হবে ২০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বাজার গবেষণা সংস্থা গ্লোব নিউজ ওয়্যারের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
স্মার্ট হোম হলো এমন একটি বাড়ি যেখানে যন্ত্রপাতি ও সেবা ইন্টারনেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। এতে রয়েছে লাইটিং, থার্মোস্ট্যাট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি, স্মার্টটিভি ও অন্যান্য ডিভাইস। এগুলো ব্যবহারকারীর কমান্ড বা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে। স্মার্ট হোমের ডিভাইসগুলো মোবাইল অ্যাপ, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সেন্সর ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্মার্ট হোম বাড়িতে সুবিধা, নিরাপত্তা দেয়ার পাশাপাশি শক্তি সাশ্রয় নিশ্চিত করে। বিশ্বব্যাপী এ বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে বিনোদন ও নিরাপত্তা খাতে।
উন্নত ইন্টারনেট ও অবকাঠামোর অভাব, উচ্চ খরচ ও নানা কারণে বিশ্বের অনেক দেশে স্মার্ট হোমের ধারণাটি এখনো খুব একটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। তবে উন্নত দেশগুলোয় এটি এখন সাধারণ ও প্রয়োজনীয় একটি প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া স্মার্ট হোম প্রযুক্তিতে এগিয়ে আছে।
স্মার্ট হোম বাজার প্রধান দুটি খাতে বিভক্ত। এক. বিনোদন যন্ত্রপাতি (যেমন স্মার্টটিভি, হোম থিয়েটার)। দুই. নিরাপত্তা ব্যবস্থা (যেমন স্মার্ট লক, সিসিটিভি, অ্যালার্ম)। এসব যন্ত্রপাতি আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ করে।
গ্লোব নিউজ ওয়্যারের বিশেষজ্ঞদের সংজ্ঞা অনুযায়ী, স্মার্ট হোম হলো আধুনিক বাড়ি। যেখানে ইন্টারনেট সংযুক্ত ডিভাইস ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে জীবনকে সহজ, নিরাপদ এবং দক্ষ করা হয়। স্মার্ট হোম প্রযুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো ইন্টারনেট সংযুক্ত যেকোনো স্থান থেকে বাড়ির সুবিধা, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধি করা। এটি স্মার্ট সিটি ধারণার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে স্মার্ট হোম ডিভাইসের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এআই ও আইওটির পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ফাইভজি ইন্টারনেট প্রযুক্তি স্মার্ট হোম ডিভাইসের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্যামসাং অস্ট্রেলিয়ার জেরেমি সিনিয়র বলেছেন, ‘আগের দিনে মানুষ কেবল লাইট-ফ্যান নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধা চাইত। কিন্তু এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের সঙ্গে ব্যবহারকারীরা এখন নিজ ঘরে আরো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চান। যেমন ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ (ক্লাইমেট কন্ট্রোল) স্বয়ংক্রিয় হওয়া।’
বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন ২০২৮ সালের মধ্যে বৈশ্বিক স্মার্ট হোম ডিভাইসের বাজারে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির (সিএজিআর) পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, আগামী তিন বছরের মধ্যে এ ধরনের পণ্যে বিক্রি ১১০ কোটি ইউনিটে পৌঁছবে।










