চীনের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে এনভিডিয়ার আরটিএক্স প্রো ৬০০০ডি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ ক্রয় বন্ধ ও এটি দিয়ে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ না চালানোর নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না (সিএসি)। যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিষেধাজ্ঞার পর এনভিডিয়া চিপটি বিশেষভাবে চীনা বাজারের জন্য তৈরি করেছিল। সিএসির নির্দেশের ফলে আলিবাবা, বাইটড্যান্সসহ বেশকিছু কোম্পানি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ও অর্ডার স্থগিত করেছে। খবর এফটি।
চীনের এ পদক্ষেপ দেশটির নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং বিদেশী প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানোর অংশ হিসেবে নেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতা বাড়ার পর থেকে দেশটি নিজস্ব এআই চিপ খাতে জোর দিচ্ছে। চীনা নিয়ন্ত্রকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছ, স্থানীয়ভাবে নির্মিত এআই প্রসেসরগুলো এখন এনভিডিয়ার চীনের জন্য তৈরি চিপের সমতুল্য বা তার চেয়ে উন্নত। তাই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণের কারণে এনভিডিয়া চীনা বাজারের জন্য বিশেষ চিপ তৈরি শুরু করেছিল। তবে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার ফলে কোম্পানিটির চীনা ব্যবসার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং লন্ডনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কেবল তখনই কোনো বাজারে সেবা দিতে পারি, যখন সংশ্লিষ্ট দেশটি তা চায়। আমি যা দেখছি তা নিয়ে হতাশ। তবে এটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৃহত্তর রাজনীতির অংশ। তাই আমরা ধৈর্য ধরব।’
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার পর চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় এআই চিপ তৈরি ও ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা করছে। হুয়াওয়ে, আলিবাবা, বাইডুসহ স্থানীয় চিপ নির্মাতারা দ্রুত উৎপাদন বাড়াচ্ছে, যেন এআই অবকাঠামোর চাহিদা পূরণ করা যায়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, এখন পুরোপুরি দেশীয় চিপের দিকে মনোযোগ দেয়াই জরুরি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার তীব্রতা আরো বাড়িয়েছে। দুই দেশই এআই খাতে আধিপত্য স্থাপনে প্রতিযোগিতা করছে।










