যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ফেসবুকের প্রধান কোম্পানি মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন প্রযুক্তি নীতি ও মানবাধিকার কর্মী ৩৭ বছর বয়সী তানিয়া ও’ক্যারল। আইনি লড়াইয়ের পর মেটা তার ব্যক্তিগত ডাটা ব্যবহার করে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। ও’ক্যারল আশা ব্যক্ত করে জানান, এটি অন্য ব্যবহারকারীদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। খবর বিবিসি।

যুক্তরাজ্যের তথ্য কমিশনারের অফিস (আইসিও) জানিয়েছে, অনলাইন টার্গেটেড বিজ্ঞাপনকে সরাসরি বিপণনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। মেটা অবশ্য দাবি করেছে, তাদের প্লাটফর্মের বিজ্ঞাপনগুলো ন্যূনতম ১০০ জনের গ্রুপকে লক্ষ্য করে প্রচার করা হয়। তাই এটি সরাসরি বিপণনের আওতায় পড়ে না। তবে আইসিও এ দাবির সঙ্গে একমত নয়।

ও’ক্যারল ২০২২ সালে মামলা করে ফেসবুককে তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দেখানো বন্ধ করার দাবি জানান। তিনি জানান, ২০১৭ সালে গর্ভবতী হওয়ার পর তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিজ্ঞাপনের ধরন হঠাৎ বদলে যায়। তার ব্যক্তিগত জীবনে কাউকে জানানোর আগেই ফেসবুক বুঝতে পেরেছিল যে তিনি গর্ভবতী। ফলে মাতৃত্ব ও শিশু সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন আসতে থাকে, যা তিনি অস্বস্তিকর মনে করেন।

যুক্তরাজ্যের সাধারণ ডাটা সুরক্ষা বিধিমালা (জিডিপিআর) আইন অনুযায়ী, সংস্থাগুলো কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ও’ক্যারলের মামলায় যুক্তি দেয়া হয়, ফেসবুকের টার্গেটেড বিজ্ঞাপন সিস্টেম যুক্তরাজ্যের সরাসরি বিপণনের সংজ্ঞার আওতায় পড়ে, যা মানুষকে আপত্তি জানানোর অধিকার দেয়।

অবশেষে, মেটা ও’ক্যারলের ব্যক্তিগত ডাটা ব্যবহার বন্ধ করতে সম্মত হয়। তিনি বলেন, ‘আমি এখন সমস্ত টার্গেটেড বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে পেরেছি। তবে আমি ফেসবুক ছাড়তে চাইছি না, কারণ এটি আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর সঙ্গে যুক্ত।’

মেটা জানায়, তাদের সেবা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থায়িত হয় এবং তারা যুক্তরাজ্যে বিজ্ঞাপনমুক্ত সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর বিষয়ে ভাবছে।