মোবাইল পরিষেবাকে দ্রুত, সহজ ও প্রযুক্তিভিত্তিক করে তুলতে মোবাইল সার্ভিস অপারেটিং সিস্টেম গিগস এবং উত্তর আমেরিকার বৃহত্তম টেলিকম নেটওয়ার্ক এটিঅ্যান্ডটি একসঙ্গে কাজ করছে। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন টেক কোম্পানিগুলো নিজেদের অ্যাপে সরাসরি ইন্টারনেট বা মোবাইল সংযোগের সুবিধা যুক্ত করতে পারবে। ফলে ফোন প্ল্যান (কল, এসএমএস ও ডাটা প্যাকেজ) সেকেন্ডের মধ্যে চালু ও অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালনা করা যাবে এবং এর সঙ্গে থাকবে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় এআই সাপোর্ট।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার টেলিকম কোম্পানি এসকে টেলিকম চলতি সপ্তাহে ওপেনএআইয়ের ব্যবসায়িক-গ্রাহক অংশীদার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। কোম্পানিটি কেবল সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নয়, ব্যবসায়িক পরিষেবাতেও ওপেনএআইয়ের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফাইভজি প্রযুক্তির আগমনে টেলিকম কোম্পানিগুলো এখন কেবল কল বা এসএমএস অপারেটরে সীমাবদ্ধ নেই। এআই, ক্লাউড, আইওটি এবং ডিজিটাল পরিষেবার দিকে রূপান্তর হচ্ছে বৈশ্বিক টেলিকম খাত। ফলে নিজেদের পরিষেবা উন্নত করতে টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিগুলো বৈশ্বিক টেক জায়ান্টগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
ওয়ান নেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধুনিক টেলিকম ডিজিটাল যোগাযোগ, ক্লাউড সেবা, আইওটি বা ইন্টারনেট অব থিংস ডিভাইস এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালে অনেক ই-কমার্স স্টোরে এআই চ্যাটবট গ্রাহকসেবা পরিচালনা করবে, ভিডিও কলের মাধ্যমে বিক্রয় সম্পন্ন হবে এবং আইওটি সেন্সরের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এসবের জন্য প্রয়োজন উন্নত টেলিকম প্রযুক্তি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী পাঁচ বছরে আরো নতুন উদ্ভাবন আসবে। টেলিকম অপারেটররা ফাইবার, ওয়্যারলেস প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। আন্তর্জাতিক টেলিকম ইউনিয়ন (আইটিইউ) বলছে, গত পাঁচ বছরে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ পুরো বিশ্বে তিন গুণ বেড়েছে। এর কারণে ব্যবসা ক্ষেত্রে ইন্টারনেট-নির্ভর কল এবং এন্টারপ্রাইজ যোগাযোগ প্রযুক্তির (কোম্পানি বা বড় প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগের জন্য প্রযুক্তি) চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
প্রতিবেদন আরো বলছে, ফাইভজি নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ মোবাইল যোগাযোগকে দ্রুত পরিবর্তন করছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী মোবাইল ব্যবহারকারীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ নেটওয়ার্ক সুবিধা পাবে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে টেলিকম খাতও শুধু কল-এসএমএসের ধারণা থেকে বের হয়ে ডিজিটাল যোগাযোগকেন্দ্রিক প্রযুক্তি কোম্পানি হিসেবে রূপান্তরিত হচ্ছে।
ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক এখন বিশ্বব্যাপী সংযোগের মূল ভিত্তি। এগুলো ক্লাউড সেবা, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং আইওটি অ্যাপ্লিকেশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইওটি এখন টেলিকম খাতের অন্যতম শক্তিশালী চালক। স্মার্ট ওয়াচ থেকে শুরু করে শিল্পে ব্যবহারের যন্ত্র পর্যন্ত অসংখ্য সংযুক্ত ডিভাইস টেলিকম নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করছে। কোরিয়া হেরাল্ড, ইউরোপিয়ান গেমিং ও ওয়ন নেট অবলম্বনে










