যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শক্তি ব্যবহার নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। ক্লাউড সার্ভিস, ভিডিও স্ট্রিমিং ও অনলাইন স্টোরেজ পরিচালনায় আগে থেকেই ডাটা সেন্টারগুলো বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। তবে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। খবর টেকরাডার।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এআইয়ের চাহিদা বাড়তে থাকায় আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের দাম ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০২৩ সালে যেখানে বিশ্বব্যাপী ডাটা সেন্টারগুলো দেশটির মোট বিদ্যুতের প্রায় ৪ শতাংশ ব্যবহার করেছে, ২০২৮ সালের মধ্যে তা বেড়ে ১২ শতাংশে পৌঁছতে পারে। এর প্রধান কারণ এআই প্রযুক্তি। চ্যাটবট বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের মতো এআই টুল চালাতে সাধারণ ইন্টারনেট কার্যক্রমের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ প্রয়োজন।

ডাটা সেন্টার আর এআই যত বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, ততই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এভাবে দুই খাতের মধ্যে নতুন ধরনের সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের দাম বাড়ার অতিরিক্ত খরচ শুধু কোম্পানিগুলোর ওপরই পড়ছে না, সাধারণ মানুষকেও বিদ্যুৎ বিলের মাধ্যমে তার বোঝা বহন করতে হচ্ছে।

২০২০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের দাম এরই মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। কার্নেগি মেলন ও নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দাম আরো ৮ শতাংশ বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার আরো জানিয়েছে, এআইয়ের প্রভাবে ভার্জিনিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুতের দাম ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর দাবি, চাহিদা সামলাতে গ্রিড উন্নয়ন জরুরি, তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এ খরচ বহন করবে কে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাপ ও খরচ আরো বাড়বে। যেমন ফ্রান্সে বসে একজন চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে কোনো তথ্য জানতে চাইলেন। এ পরিষেবা চালাতে দরকারি ডাটা সেন্টারের বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। ফলে সে বাড়তি বিদ্যুৎ খরচের বোঝা গিয়ে পড়ছে মার্কিন জনগণের বিদ্যুৎ বিলের ওপর।

চ্যাটজিপিটির মতো চ্যাটবটের সার্ভারগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডাটা সেন্টারে পরিচালিত হয় এবং সেগুলো মার্কিন বিদ্যুৎ গ্রিড থেকেই শক্তি পায়।

কিছু প্রযুক্তি কোম্পানি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা এড়াতে নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করছে। অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, গুগল ও মেটা এরই মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস টারবাইন এবং ডিজেল ব্যাকআপ জেনারেটর ব্যবহার করছে।