দ্রুত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠা থ্রেডসের প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। নতুন এই অ্যাপকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন মার্ক জাকারবার্গ, তা বোধহয় আর থাকছেন না। খবর বিবিসি।

গত বুধবার (৫ জুলাই) চালু হওয়ার পর লাখ লাখ ব্যবহারকারী সাইন-আপ করেছে নতুন এই অ্যাপে। যা ২৪ ঘণ্টার মাঝে ৩ কোটির ঘর পার হয়ে গেছে।

‘প্রতিযোগিতা ঠিক আছে, প্রতারণা নয়’, এই মন্তব্য করে এরই মাঝে নিজের ক্ষোভ করেছেন টুইটারের মালিক ইলোন মাস্ক। তবে সাবেক টুইটার কর্মীরা থ্রেডস তৈরিতে সাহায্য করেছিল এমন দাবি অস্বীকার করেছে মেটা।

থ্রেডস ও টুইটারের অবয়ব মোটামুটি একই। এমনকি ফিচার ও নিউজফিডের ধরন ব্যবহারকারীদের তত অপরিচিত ঠেকবে না।

নিউজ আউটলেট সেমাফোর জানায়, গত বুধবার টুইটারের আইনজীবী অ্যালেক্স স্পিরো মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। যেখানে অভিযোগ করে বলা হয়, থ্রেডস তৈরিতে টুইটারের বাণিজ্য গোপনীয়তা ও অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির নিয়মতান্ত্রিক, ইচ্ছাকৃত ও বেআইনি অপপ্রয়োগ হয়েছে।

আরো অভিযোগ করেন, বাণিজ্য গোপনীয়তা ও অন্যান্য অতিগোপনীয় তথ্য পেতে টুইটারের সাবেক কর্মীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যা শেষ পর্যন্ত মেটাকে একটি ‘কপিক্যাট’ অ্যাপ তৈরিতে সাহায্য করেছে।

টুইটার তার বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অধিকার কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে চায়। মেটা যদি অবিলম্বে টুইটারের বাণিজ্য গোপনীয়তা বা অন্যান্য অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য ব্যবহার বন্ধ না করে, তবে আইনি পদক্ষেপ নেবে।

এই চিঠি প্রসঙ্গে মাস্ক টুইটারে একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, প্রতিযোগিতা ভালো, প্রতারণা নয়।

তবে মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন থ্রেডস পোস্টে জানায়, থ্রেডসের ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের কেউ টুইটারের সাবেক কর্মী নয়। দুটি একই জিনিস নয়।

শুরুতেই প্রতিদ্বন্দ্বীতার কথা স্বীকার করে নিয়েছিলেন মাস্ক ও জাকারবার্গ। এ নিয়ে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় কৌতুকও করেছিলেন।

টুইটারের মতো থ্রেডস স্বতন্ত্র অ্যাপ হলেও এটি ইনস্টাগ্রামের সঙ্গে যুক্ত।

বিশ্বের শতাধিক দেশে থ্রেডস চালু হওয়ার পরপরই ১১ বছরের নীরবতা ভেঙে টুইটারে লগ-ইন করেন মার্ক জাকারবার্গ। যেখানে তিনি প্রায় অভিন্ন স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয় মিম শেয়ার করেন। এর মাধ্যমে টুইটার ও থ্রেডসের অভিন্ন ব্যবহার ও লক্ষ্য তুলে ধরেন।

জাকারবার্গ বলেছিলেন, এই অ্যাপ হবে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’। যা এর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। প্রতিক্রিয়ায় ইলোন মাস্ক জানান, ইনস্টাগ্রামে দুঃখ লুকিয়ে হাসি হাসি মুখে থাকার চেয়ে টুইটারে আক্রমণকেই এগিয়ে রাখবেন তিনি।

থ্রেডসে জাকারবার্গকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, অ্যাপটি টুইটারের চেয়ে বড় হবে কি না। জবাবে বলেন, এতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে আমি মনে করি ১০০ কোটির বেশি মানুষের মিথস্ক্রিয়ার একটি অ্যাপ থাকা উচিত। টুইটার এই সুযোগ পেলেও ধরে রাখতে পারেনি।