রফতানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন ঘটনার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে ডাচ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি এএসএমএল হোল্ডিংস। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি প্রতিনিয়ত কমছে। লিথোগ্রাফি সিস্টেমে আধিপত্য বিস্তারকারী কোম্পানিটি সম্প্রতি প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে। খবর টেকটাইমস।
রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও চীনে রফতানি বিধিনিষেধ বেড়ে যাওয়ায় ডাচ কোম্পানির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এএসএমএল।
কোম্পানিটির প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা (সিএফও) রজার ড্যাসেন বিক্রয় পূর্বাভাস নিম্নমুখী থাকা সত্ত্বেও সেমিকন্ডাক্টর বাজার পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো জানান, ইন্টেল করপোরেশন ও টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টস ইনকরপোরেটেডের মতো প্রধান চিপ নির্মাতাদের কাছ থেকে ক্রয়াদেশ কমলেও পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
চীনের কাছে এএসএমএল প্রযুক্তি বিক্রিতে এসব ঘটনার প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডাচ কোম্পানিটি। চীনে উন্নত চিপ উৎপাদন সরঞ্জামের রফতানি সীমিত করতে জাপান, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সহযোগিতা কার্যক্রম এ উদ্বেগকে আরো বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের রফতানি বিধিনিষেধের কারণে চীনে মিড রেঞ্জের ডিপ আল্ট্রাভায়োলেট লিথিওগ্রাফিক সিস্টেম বিক্রি ১০-১৫ শতাংশ কমবে বলে আশঙ্কা করছে এএসএমএল। এদিকে কোম্পানিটি ২০১৯ সাল থেকে চীনে তাদের সবচেয়ে উন্নত এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট (এইউভি) লিথোগ্রাফিক টুল বিক্রি করতে পারছে না। চিপ তৈরিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে চীনের সাম্প্রতিক উদ্যোগ, সরকারি ভর্তুকি ও কৌশলগত বিনিয়োগ এএসএমএলের ব্যবসায়িক জটিলতাকে আরো বাড়িয়েছে।
উন্নত চিপ প্রযুক্তি বিকাশকে মার্কিন বাধা থাকলেও, সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশনের (এসএমআইসি) নেতৃত্বে চীনা চিপ নির্মাতারা চলতি বছরের প্রথম দিকে পরবর্তী প্রজন্মের স্মার্টফোন প্রসেসর উৎপাদন শুরু করতে চায়। এছাড়া চীনের সাংহাই মাইক্রো ইলেকট্রনিকস ইকুইপমেন্টের (এসএমইই) মতো দেশীয় প্রতিযোগীদের উত্থান এএসএমএলের বাজার আধিপত্যের জন্য হুমকির কারণ দাঁড়িয়েছে।
তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি ও স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের মতো কয়েকটি বড় গ্রাহকের ওপর এএসএমএল ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা চীনা বাজারের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
নানামুখী বাধা থাকলেও এএসএমএল তার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা সম্পর্কে আশাবাদী। কোম্পানির সিএফও রজার ড্যাসেন জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিদ্যুতায়নের মতো মূল প্রযুক্তিগুলোয় কোম্পানি এখন মনোনিবেশ করছে, যা তাদের পণ্যগুলোর ভবিষ্যতের চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে এএসএমএলের নিজেদের এগিয়ে রাখতে প্রযুক্তি উদ্ভাবনী কৌশল অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই। কোম্পানিটি সম্প্রতি উন্নত ফিচার ও সক্ষমতা রয়েছে এমন সর্বশেষ চিপমেকিং মেশিন উন্মোচন করেছে। তার শীর্ষস্থানীয় ইইউভি মেশিনগুলোর জন্য রেকর্ড পরিমাণে অর্ডারের মাধমে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের পুনরুদ্ধার করতে পারবে বলে আশাবাদী রয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী কোম্পানিটি নতুন কারখানা খোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করছে।










