ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ডিভাইসের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় হার্ডওয়্যারে দুর্বলতা বাড়ছে বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বাগক্রাউড। বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এখন আগের তুলনায় সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। কারণ এখন স্মার্টহোম ডিভাইস, রাউটার, মডেম, সিসিটিভি ক্যামেরার মতো ডিভাইসগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভালোভাবে সুরক্ষিত থাকে না। ফলে সহজেই হ্যাক করা যায়। এর সঙ্গে বিভিন্ন অ্যাপ ও ডিভাইসের সংযোগে ব্যবহৃত এপিআই ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারও যুক্ত হয়েছে। খবর আইওটি নাউ।

ইনসাইড দ্য মাইন্ড অব আ সিআইএসও ২০২৫ শিরোনামের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আইওটির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্প্রতি বৈশ্বিক পর্যায়ে হার্ডওয়্যারের দুর্বলতা ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। গত এক বছরে ৮১ শতাংশ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ নতুন ধরনের হার্ডওয়্যার দুর্বলতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ডওয়্যার দুর্বলতা ডিভাইসের নিরাপত্তা ঘাটতি বা সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক স্তর ছাড়াই সরাসরি আক্রমণের পথ তৈরি করে। যেমন কম্পিউটার, রাউটার, স্মার্ট ক্যামেরা বা আইওটি ডিভাইসের দুর্বলতা ব্যবহার করে হ্যাকার সেটি নিয়ন্ত্রণ বা ডাটা চুরি করে।

বাগক্রাউডের অ্যাডভান্সড সার্ভিসেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুলিয়ান ব্রাউনলো ডেভিস বলেন, ‘হার্ডওয়্যারের ওপর সাইবার আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যেহেতু আইওটি ডিভাইসের সংখ্যা বাড়ছে, তাই হ্যাকারদের আক্রমণের বড় সুযোগও তৈরি হচ্ছে। আমরা যখন প্রচলিত ওয়েব ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা উন্নত করছি, তখন হ্যাকাররা সরাসরি আইওটি ডিভাইসগুলো লক্ষ্য করছে।’

তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি নতুন ডিভাইস তৈরির সময় থেকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তবু বাস্তবে অনেক আইওটি ডিভাইস এখনো দুর্বল নিরাপত্তা নিয়ে বাজারে যাচ্ছে।

বাগক্রাউডের প্রতিবেদনে হাজার হাজার পাবলিক ও প্রাইভেট বাগ বাউন্টি প্রোগ্রামের (প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণভিত্তিক নিরাপত্তা পরীক্ষা ব্যবস্থা) নিরাপত্তা ত্রুটি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এখানে হাজার হাজার ডিভাইস, অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও সার্ভারে পাওয়া অসংখ্য নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বাগক্রাউডের সাইবার নিরাপত্তা প্রধান নিক ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারে সাইবার নিরাপত্তাও জটিল হয়ে যাচ্ছে। একা কোনো সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এ সমস্যা মোকাবেলা করতে পারবে না। সফল হতে হলে কোম্পানি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’