বিদেশী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর চেয়ে দেশী প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা
বৃদ্ধি, মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও মান উন্নয়ন এবং ব্যবসায় ব্যয় কমানো ও সহজীকরণের
দাবি করেছে আইটি ও আইটিইএস খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।
রোববার (৯ জুন) রাজধানীর বেসিস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বাজেট প্রতিক্রিয়া
বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আইটি ও আইটিইএস খাতের ৫ বাণিজ্য সংগঠন।৷বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন
অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস),
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো), ইন্টারনেট
সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপিএবি) এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশেন অব বাংলাদেশের
(ই-ক্যাব) যৌথ উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিসিএসের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সরকারের দয়া-দাক্ষিণ্য নয় বরং নীতিগত সমর্থনে
স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করতে চায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীরা। তিন ধরনের সুবিধা
পেলে সরকারের কাছে আর প্রণোদনা চাইবেন না তারা। এগুলো হলো- বিদেশী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের
মতো দেশী প্রতিষ্ঠানের সুযোগ নিশ্চিত করা, ইন্ডাস্ট্রির জন্য পর্যাপ্ত শীর্ষ ও মধ্যম
সারির দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তোলা এবং ব্যবসায় ব্যয় কমানো ও সহজীকরণ করা।
অনুষ্ঠানে আইএসপি সভাপতি মো. ইমদাদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
থাকা সত্ত্বেও ২০২৪-২৫ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে ইন্টারনেট সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে
তথ্যপ্রযুক্তি সেবা (আইটিইএস) খাতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট
সেবায় ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর, অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক ইউনিট (ওএনইউ) ও অপটিক্যাল লাইন
টার্মিনালের (ওএলটি) ওপর ৩৭ শতাংশ ভ্যাট ও শুল্কারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি
খাতে ব্যবহৃত সব পণ্যের ওপর শুল্ক না কমায় দেশে ইন্টারনেট সেবার প্রসার ও স্মার্ট বাংলাদেশ
গড়ার বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হবে। এ কারণে প্রতিবছরের মতো এবারো আমাদের মন খারাপ হয়েছে।
আমাদের জন্য এটা মন খারাপের বাজেট।
বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর অব্যাহতির
মেয়াদ তিন বছর বৃদ্ধি করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। এ কর অব্যাহতি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের
পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, রফতানিমুখী উৎপাদন শিল্পসহ
বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দেশের ক্লাউড সার্ভিস এবং ওয়েব হোস্টিং ব্যবসার
মাত্র ১০ শতাংশ দেশীয় উদ্যোক্তাদের দখলে রয়েছে। তাই নতুন করে এ খাতকে করের আওতায় আনা
হলে তা দেশীয় উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করবে। পাশাপাশি হাই-টেক পার্কের বিনিয়োগকারীরা
শুল্কমুক্ত সুবিধা হারিয়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির ওপর এক শতাংশ আমদানি শুল্কের মুখোমুখি
হতে পারেন। এটি পুনর্বিবেচনা করে হাই-টেক পার্কের বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমান শুল্কমুক্ত
সুবিধা বহাল রাখতে হবে।
বাক্কো সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর অব্যাহতি
নিঃসন্দেহে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নতুন উদ্ভাবন এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরাসরি অবদান
রাখবে। এছাড়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন রফতানিমুখী
শিল্পেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এবারের বাজেটে ক্লাউড সার্ভিস,
আইটি প্রোসেস আউটসোর্সিং, মেডিকেল ট্রান্সক্রিপশন, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, সিস্টেম
ইন্টিগ্রেশন এবং এনটিটিএন সেবার মতো খাতগুলো থেকে কর অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ফলে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে। অন্যদিকে মোবাইলের সিম কার্ড
ব্যবহারের মাধ্যমে প্রদত্ত সেবায় সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করায় মোবাইল
ইন্টারনেটের ব্যয় বাড়বে।
ই-ক্যাবের সহসভাপতি সৈয়দা আম্বারীন রেজা বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট উৎসাহিত
করতে এ খাতে পেমেন্ট চার্জে ন্যূনতম দুই শতাংশ আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে। এছাড়া শিক্ষা
ও চিকিৎসা খাতে ক্যাশলেস লেনদেনের ওপর বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।










