বিশ্বের সবচেয়ে বড় চুক্তিভিত্তিক ইলেকট্রনিকস নির্মাতা এবং অ্যাপল আইফোনের প্রধান সরবরাহকারী তাইওয়ানভিত্তিক ফক্সকন চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) শক্তিশালী মুনাফার ঘোষণা দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সার্ভারের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে কোম্পানির পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে, যা বাজারের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। খবর সিএনবিসি

হোন হাই প্রিসিশন ইন্ডাস্ট্রি নামে পরিচিত ফক্সকনের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানির পণ্য বা সেবা বিক্রি থেকে আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৯৭৩ কোটি ডলার (১ দশমিক ৭৯ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৭৯ হাজার কোটি নিউ তাইওয়ান ডলার বা এনটিডি), যা বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এলএসইজি স্মার্টএস্টিমেটসের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলে গেছে। পরিচালন মুনাফা হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৬৬০ কোটি এনটিডি, যা অনুমিত ৪ হাজার ৯৭৭ কোটি এনটিডির চেয়ে বেশি। নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৩৬ কোটি এনটিডি, যা বিশ্লেষকদের ৩ হাজার ৮৮১ কোটি এনটিডির পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি।

গত বছরের তুলনায় এ বছর রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬ শতাংশ। এর বড় অংশ এসেছে এআই সার্ভার ব্যবসা থেকে, যা এখন কোম্পানির অন্যতম প্রধান আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে সার্ভার পণ্যের বিক্রি মোট আয়ের ৪১ শতাংশ দখল করেছে, যা প্রথমবারের মতো স্মার্ট কনজিউমার ইলেকট্রনিক্সকে (৩৫ শতাংশ) ছাড়িয়ে গেছে।

ফক্সকন এআই ওয়ার্কলোডের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা সার্ভার র‌্যাক তৈরি করে এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এআই চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। কোম্পানিটি আশা করছে চলতি প্রান্তিকেও এআই সার্ভারের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং আয় গত বছরের তুলনায় ১৭০ শতাংশের বেশি বাড়বে। এটি ফক্সকনের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হবে বলেও মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

জুলাইয়ের শুরুতে ফক্সকন তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তাদের মোট রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। এর সঙ্গে সামনের দিনগুলোয় বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। জুলাইয়ের শেষ দিকে ফক্সকন শিল্প মোটর নির্মাতা টেকো ইলেকট্রিক অ্যান্ড মেশিনারিতে বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়, যা ভবিষ্যতে কোম্পানিটির এআই ডাটা সেন্টার উৎপাদন কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এআই ছাড়াও ফক্সকন তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। তারা বৈদ্যুতিক গাড়ি সংযোজন ও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি ফক্সকনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের ওপর ২০ শতাংশ"অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছেন, যদিও এ নিয়ে আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ আমদানিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সতর্কবার্তা দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এর বাইরে থাকবে।

এ পরিস্থিতি সামলাতে ফক্সকন এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য তৈরি আইফোনের চূড়ান্ত সংযোজনের বড় অংশ ভারতে সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া হোন হাইয়ের মালিকানাধীন ধাতব কাভার সরবরাহকারী ফক্সকন টেকনোলজি কোম্পানি উত্তর আমেরিকার ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এআই ও অন্যান্য উদীয়মান খাতে সুযোগগুলোকে কাজে লাগানোর সক্ষমতাই ফক্সকনের ভবিষ্যৎ সাফল্যের চাবিকাঠি হবে। আপাতত এআই খাতের প্রবৃদ্ধি কোম্পানিকে বড় মুনাফা এনে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক এআই অবকাঠামো বাজারে তাদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করেছে।