বর্তমানে ৩০৭ কোটির বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেসবুক। ২০১৪ সালে প্লাটফর্মটির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ১৪০ কোটি। বিগত এক দশকে ফেসবুক ব্যবহারকারী বেড়েছে ১২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, বিশ্বব্যাপী মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে ফেসবুক। প্লাটফর্মটি বন্ধু, পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগকে সহজ করে তুলেছে। ফেসবুক শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্যই নয়, ব্যবসা, বিপণন ও তথ্য আদান-প্রদানসহ ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি বড় ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফেসবুকের যাত্রা শুরু ২০০৪ সালে। মার্ক জাকারবার্গ ও তার তিন সহপাঠী হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফেসম্যাশ’ নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন। এটি ছাত্রদের ছবি দেখানোর একটি প্লাটফর্ম ছিল, যেখানে ব্যবহারকারীরা তাদের সঙ্গীদের ছবির ওপর রেটিং দিতে পারতেন। তবে এটি কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ওই বছরই জাকারবার্গ ও তার দল ‘দ্য ফেসবুক ডটকম’ নামে একটি নতুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তৈরি করেন। এভাবে ফেসম্যাশ হয়ে যায় ফেসবুক।
চালু হওয়ার এক বছর পরই ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ লাখে। এটি প্রথমে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। তবে পরের বছর প্লাটফর্মটির নাম পরিবর্তন করে শুধু ‘ফেসবুক’ রাখা হয় এবং ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেয়া হয়। তখন থেকেই বিশ্বব্যাপী এর জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।
ডিমান্ডসেইজের তথ্যানুযায়ী, ফেসবুকের ইতিহাসে কেবল একবারই ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমতে দেখা যায়। ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আগের প্রান্তিকের তুলনায় দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী প্রায় ১০ লাখ কমে যায়। তবে পরবর্তী প্রান্তিকে অর্থাৎ ২০২২ সালের জানুয়ারি-মার্চে ব্যবহারকারী সংখ্যা আবার ২ কোটি ১ লাখ বাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ জন কেনেডি বলেন, ‘ফেসবুক এখন আর একটি কোম্পানি নয়, এটি একটি “রাষ্ট্র”। আমরা কী ভাবি, কী বিশ্বাস করি, কীভাবে ভোট দিই, কী কিনি, এমনকি আমাদের অনুভূতিকেও প্রভাবিত করে।’
ফেসবুকের উৎপত্তিস্থল এবং একটি প্রযুক্তিসচেতন জাতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ফেসবুকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করেন ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ব্যবহারকারীরা, যা দৈনিক গড়ে ৪৫ মিনিট। এর বিপরীতে সবচেয়ে কম সময় ব্যয় করেন ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণরা, দৈনিক গড়ে ২২ মিনিট। এছাড়া প্লাটফর্ম ব্যবহারকারীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মূলত এটি বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে মেসেজিংয়ের জন্য ব্যবহার করেন।










