২০২০-২৭ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ডিসপ্লে সরঞ্জামে বিনিয়োগ দাঁড়াবে মোট ৭৬ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ওএলইডি প্রযুক্তিতেই আসবে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ। শুধু ২০২৫ সালে এ খাতে ব্যয় বাড়বে বছরওয়ারি ৩১ শতাংশ। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ টিভি বা মনিটরের মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মতো প্রযুক্তির স্ক্রিন (ডিসপ্লে প্যানেল) তৈরি করতে ব্যবহার হয় ডিসপ্লে সরঞ্জাম। এর মধ্যে থাকতে পারে স্ক্রিন বানানোর মেশিন, ওএলইডি বা এলসিডি প্যানেল তৈরির যন্ত্র। এছাড়া ডিসপ্লে পরীক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রও ডিসপ্লে সরঞ্জামের অন্তর্ভুক্ত।

কাউন্টারপয়েন্টের তথ্যানুযায়ী ভিশনক্স ও সিএসওটি শিগগিরই ওএলইডি স্ক্রিন উৎপাদনে নতুন ‘ডেপোজিশন’ নামে একটি নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে। ডেপোজিশন হলো স্ক্রিন তৈরির ধাপ, যেখানে পাতলা স্তর বসিয়ে ওএলইডি প্যানেল তৈরি করা হয়।

বিশ্লেষক জেডেন লি বলেন, ‘ভিশনক্স ও সিএসওটি কোম্পানি নতুন প্রজন্মের ওএলইডি স্ক্রিন তৈরি করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। যা পুরনো ফাইন মেটাল মাস্ক (এফএমএম) পদ্ধতির তুলনায় খরচ কমাতে ও প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে সাহায্য করবে।’

আইটি, অটোমোবাইল, স্মার্টফোন ও নতুন প্রযুক্তি যেমন এক্সআর (এআর, ভিএআই, এমআর) খাতে ডিসপ্লের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিসপ্লে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতিতে বেশি বিনিয়োগ করছে।

ডিসপ্লে শিল্পে এখন সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হচ্ছে ওএলইডি, তারপর এলসিডি ও মাইক্রো-ওএলইডি। কাউন্টারপয়েন্টের পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছর ওএলইডি সরঞ্জামে ব্যয় বাড়বে ৩১ শতাংশ, অন্যদিকে এলসিডি খাতে কমবে ৪৫ শতাংশ। ২০২৫-২৭ সালের মধ্যে ডিসপ্লে শিল্পে মোট বিনিয়োগের ৮০ শতাংশই যাবে এ প্রযুক্তিতে। আর একই সময় এলসিডিতে বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কমবে।

ওএলইডি ডিসপ্লে উজ্জ্বল রঙ, পাতলা ও হালকা গঠন এবং কম শক্তি খরচের কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দ্রুত রেসপন্স টাইম ও ফোল্ডেবল বা বাঁকা ডিজাইনের সুবিধা এটিকে স্মার্টফোন, টিভি, ল্যাপটপ ও ভিআর/এআর ডিভাইসে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় করে তুলেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ১৭০-এর বেশি ডিসপ্লে সরঞ্জাম সরবরাহকারী কোম্পানি আছে। আগে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো শীর্ষে থাকলেও বাজারে সম্প্রতি বেশকিছু নতুন সরবরাহকারীর আগমন ঘটছে। রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং চীনের স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমর্থনে নতুন কোম্পানি ডিসপ্লে শিল্পে প্রবেশ করছে।

কাউন্টারপয়েন্টের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ডিসপ্লে সরঞ্জাম বাজারে চলতি বছর শীর্ষে থাকবে জাপানের ক্যানন। প্রতিষ্ঠানটির আয় ২০২৫ সালে বাড়বে ৯ শতাংশ।