বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের কোডিংয়ের প্রায় ৫০ শতাংশই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে সম্পন্ন করছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিনির্ভর চাকরির বাজারে প্রাসঙ্গিক থাকতে এআই টুল ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যান। স্ট্রেটেচারি নামের একটি নিউজলেটারে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। খবর ইন্ডিয়া টুডে।
সাক্ষাৎকারে অল্টম্যান বিজনেস ইনসাইডারের একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এআই ক্রমাগতভাবে কোডিংয়ের কাজ দখল করে নিচ্ছে। ফলে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা প্রযুক্তিনির্ভর ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের এখন থেকেই এআই টুল ব্যবহারে দক্ষ হয়ে ওঠা জরুরি। চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে এআইয়ের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা অপরিহার্য।’
অল্টম্যান জানান, কর্মজীবনে প্রবেশকারী তরুণদের যেকোনো কর্মপরিবেশে মানিয়ে নেয়ার সক্ষমতা ও কঠিন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকার দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। তিনি নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত দক্ষতার চেয়ে নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতি শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, ভবিষ্যতে এআই আরো শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা কমে যেতে পারে। তবে এ প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে ঘটবে। তা ছোট খাত থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পুরো শিল্প খাতকে প্রভাবিত করবে।
ওপেনএআইয়ের সিইও বলেন, ‘বর্তমান সময়ের এআই টুল ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করা যেন তার শৈশবে কোডিং শেখার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। আমি যখন স্কুল শেষ করছিলাম, তখন সবচেয়ে কৌশলগত বিষয় ছিল কোডিং শেখা। এখন সেটিই হলো এআই টুল ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন।’ তিনি মনে করেন, এআইয়ে পারদর্শিতা ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা এনে দেবে।
মার্কিন এআই স্টার্টআপ অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই সম্প্রতি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৯০ শতাংশ কোড তৈরি করবে এআই। ওপেনএআইয়ের প্রধান পণ্য কর্মকর্তা কেভিন ওয়েলও বলেছেন, ‘চলতি বছরের শেষ নাগাদ কোডিংয়ে এআই মানুষের চেয়েও এগিয়ে যাবে।’
এসব ভবিষ্যদ্বাণী সমর্থন করে অল্টম্যান ‘এজেন্টিক কোডিং’ ধারণার কথাও তুলে ধরেন। এটি এক ধরনের উন্নত অটোমেশন ব্যবস্থা, যেখানে এআই অধিকতর কোডিং দায়িত্ব নিতে পারে। যদিও এটি এখনো উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে, তবে অল্টম্যান এই ধারণার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী।










