যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কুপারটিনোতে অবস্থিত টেক জায়ান্ট অ্যাপলের সদর দপ্তরে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গ্লো টাইম’ ইভেন্ট। যেখানে নতুন আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডসসহ আরো কয়েকটি পণ্য ও প্রযুক্তি উন্মোচন করা হয়। বর্তমানে এসব পণ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে চলছে নানা পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ। প্রযুক্তি দুনিয়ায় নজর কাড়ছে এয়ারপডস প্রো টু। এতে যোগ করা হবে বিশেষ স্বাস্থ্যবিষয়ক ফিচার। অ্যাপলের দাবি, এয়ারপডস প্রো টুতে ক্লিনিক্যাল গ্রেডের শ্রবণসহায়ক ফিচার থাকবে। শ্রবণশক্তি যাদের হ্রাস পেয়েছে তাদের জন্য এটি সহায়ক হবে। খবর সিবিএস নিউজ।
এয়ারপডস প্রো টুকে অ্যাপল ওভার-দ্য-কাউন্টার (ওটিসি) শ্রবণসহায়ক ডিভাইস বলছে। অর্থাৎ শ্রবণ বিশেষজ্ঞের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ডিভাইসটি কেনা যাবে ও শ্রবণ সমস্যায় ব্যবহার করা যাবে। সিবিএসকে বিশেষজ্ঞরা বলেন, মিউজিক শোনার পাশাপাশি মেডিক্যেল ডিভাইস হিসেবে ব্যবহারের সুবিধা থাকায় এটি ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে। কারণ শ্রবণসহায়ক যন্ত্রের দাম অনেক বেশি হয়ে থাকে ও নতুন প্রজন্মের সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাশন বিবেচনায় মানানসই না হওয়ায় ব্যবহার করতে চান না। এয়ারপডস দামে তুলনামূলক কম, যা কেউ ব্যবহারে আপত্তি করেন না।
২০২২ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ঘোষণা দেয় যে আমেরিকানরা ওটিসি শ্রবণসহায়ক ডিভাইস কিনতে পারবে। সাধারণত ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে যেসব ডিভাইস কেনা হয় সেগুলোর দাম অনেকটা বেশি হয়ে থাকে। এর বাইরের ডিভাইসগুলোর দাম তুলনামূলক কম হয়। তবে স্বাস্থ্যবিষয়ক ডিভাইসের ক্ষেত্রে এফডিএ-এর ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অ্যাপল এয়ারপডসের জন্য এখনো ছাড়পত্র পায়নি। অ্যাপল জানিয়েছে, এয়ারপডস প্রো টু হেলথ ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করার আগে ৫ মিনিটের একটি পরীক্ষা প্রয়োজন। আইফোনের নির্দিষ্ট স্ক্রিনে টাচ করলে ভিন্ন তরঙ্গ ও স্বরে শব্দ বাজতে থাকবে। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তির ঠিক কতটা শ্রবণ সক্ষমতা আছে তা যাচাই করা হবে। পাঁচ মিনিটের যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে ওই ব্যক্তির প্রোফাইল তৈরি হবে ও পরবর্তীতে বিভিন্ন পরিবেশে প্রয়োজনমাফিক শব্দ শোনাবে। হালকা থেকে মাঝারি পর্যায়ের শ্রবণ সমস্যার ক্ষেত্রে ডিভাইসটি কাজে লাগবে।
২৪৯ ডলারের এয়ারপডসটিতে এখনো ফিচারটি যোগ করা হয়নি। চলতি বছরের শেষ নাগাদ সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এটি যোগ হবে।










