প্রযুক্তি জগতে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। সংবাদপত্র, সোশ্যাল মিডিয়া ও সাধারণ আলোচনায়ও সর্বত্র উঠে আসছে এআই। ব্যক্তি থেকে শুরু করে অনেক ব্যবসায়প্রতিষ্ঠান দ্রুতগতিতে এ প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানির সর্বশেষ বৈশ্বিক জরিপে জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী ৭৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অন্তত একটি ব্যবসায়িক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার হচ্ছে। খবর সাপ্লাইচেইন ব্রেইন।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইয়ের সহায়তায় এখন গ্রাহকসেবায় চ্যাটবট ও ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় সেবা দেয়া যায়। ডাটা বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাসে এআই ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে আরো শক্তিশালী করছে। পাশাপাশি নিয়মিত কাজ যেমন উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় স্বয়ংক্রিয়তা আনা হচ্ছে। এছাড়া মার্কেটিংয়ে গ্রাহকের আচরণের ওপর ভিত্তি করে পরিষেবা তৈরি করা যাচ্ছে। আবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার সুরক্ষা বাড়াতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মতে, এআই ব্যবসাকে দ্রুততর, দক্ষ ও ফলপ্রসূ করে তুলছে।

আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান প্রেসিডেন্স রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, সেবা হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আকার সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দ্রুত বাড়ছে। এটি এমন প্রযুক্তি, যেখানে এআই সম্পর্কিত বিভিন্ন সেবা ও টুলস ক্লাউডের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। ফলে প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ইনস্টল না করেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা নিতে পারছে। ২০২৩ সালে এ বাজারের মোট আয়ের ৪১ শতাংশ হিস্যা ছিল উত্তর আমেরিকার। তবে সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল শিগগিরই বাজারে নেতৃত্ব দেবে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে কোম্পানিগুলো আরো ভালো গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। বিশাল ডাটা নির্ভুলভাবে পরিচালনার জন্য এসব প্রতিষ্ঠান বিশ্লেষণমূলক কাজে এআইয়ের সহায়তা নিচ্ছে। এআই-সেবা ব্যবহার হয় মূলত কাজের প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করতে, মানুষের হস্তক্ষেপ কমাতে। উৎপাদক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তিটির সহায়তায় পরিচালন খরচ কমাতে পারছে। ফলে কোম্পানির মুনাফাও বাড়ছে।

তবে এর নেতিবাচক প্রভাবও পড়ছে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ওপর। মাইক্রোসফট, ইন্টেল থেকে শুরু করে আইবিএম ও ক্রাউডস্ট্রাইকের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সম্প্রতি ব্যাপকসংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান জানাচ্ছে, এআই ব্যবহারে নতুন লোক নিয়োগের প্রয়োজন কমেছে। অন্যদিকে গবেষণা বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে অভিজ্ঞ সফটওয়্যার নির্মাতাদের কাজের গতি কমে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক এআই গবেষণা সংস্থা এমইটিআর সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অভিজ্ঞ সফটওয়্যার ডেভেলপাররা পরিচিত কোডবেসে কাজ করার সময় আধুনিক এআই টুল ব্যবহার করলেও কাজের গতি বাড়েনি; বরং সময় বেশি লেগেছে। কারণ, এআই অনেক সময় ভুল বা প্রাসঙ্গিক নয় এমন পরামর্শ দেয়, যেগুলো ঠিক করতে অতিরিক্ত সময় দিতে হয়।

দাসো সিস্টেমসের স্ট্র্যাটেজি ও মার্কেটিং ডিরেক্টর অ্যাড্রিয়ান উড বলেন, ‘কোম্পানিগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আরো সতর্ক হতে হবে। যদি আমরা ব্যবসায় বড় সিদ্ধান্ত নিতে, যেমন সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠনে জেনারেটিভ বা এজেন্টিক এআইয়ের ওপর নির্ভর করি, তাহলে সেটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হবে।’

তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সঠিকভাবে কাজ করতে প্রয়োজন পরিষ্কার, সঠিক ও প্রক্রিয়াযোগ্য ডাটার। তবে অনেক সময় এসব ডাটার মধ্যে এমন পক্ষপাত লুকিয়ে থাকে, যা মানুষ সহজে ধরতে পারে না। ফলে এআইর সিদ্ধান্তও পক্ষপাতপূর্ণ হতে পারে, যা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।