সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহারে তরুণ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে সমালোচনা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে এ সংক্রান্ত আলোচনা বেশ জোরদার হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব ও টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিউইয়র্ক শহরের মেয়র এরিক অ্যাডামস।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, প্লাটফর্মগুলোর বিভিন্ন পরিষেবার কারণে তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক শহরের স্কুল শাখা ও স্বাস্থ্যসেবাসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো লস অ্যাঞ্জেলেসের কাউন্টি শাখায় মামলাটি দায়ের করেছে। কেননা এসব কোম্পানি এ অঞ্চলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মামলায় অ্যাটর্নিরা উল্লেখ করেছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, মেটা, স্ন্যাপ, বাইটড্যান্স ও গুগল তরুণদের আকৃষ্ট করার জন্য জেনেশুনেই তাদের কনটেন্টের ডিজাইন, উন্নয়ন, পরিচালনা, প্রচারণা ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সেই সঙ্গে এসব ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অংশগ্রহণের হারও কম রাখা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য তৈরি ও প্রচারণায় বেশ কয়েকটি শহরের আইন লঙ্ঘন করেছে। যার মধ্যে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত ও অবহেলার বিষয় রয়েছে।
বাদীদের দাবি, এসব প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে অনেক শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্কুল, স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিষেবা খাত ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এক বিবৃতিতে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র বলেন, ‘গত এক দশকে আমরা দেখেছি যে অনলাইন জগৎ কতটা আসক্তিপূর্ণ এবং অপ্রতিরোধ্য হতে পারে। বিশেষ করে আমাদের শিশুদের কীভাবে ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে এবং তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে সেটি স্পষ্ট।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজ যে সংকটাবস্থা তৈরি হয়েছে সেখানে তাদের ভূমিকার জন্য সংস্থাগুলোকে দায়বদ্ধ রাখতে নিউইয়র্কের অধিবাসীদের পক্ষে আমরা সাহসী এ পদক্ষেপ নিচ্ছি। সে সঙ্গে জনস্বাস্থ্যে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেটি কাটিয়ে উঠতেও কাজ চলছে।’
মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে টিকটকের এক মুখপাত্র জানান, ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে শিশুদের সুরক্ষায় প্লাটফর্মটির ভালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। মুখপাত্র বলেন, ‘প্লাটফর্মকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা প্রতিনিয়ত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। খাতজুড়ে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো থেকে প্লাটফর্মকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
অভিযোগের বিষয়ে গুগলের এক প্রতিনিধি জানান, এগুলো সত্য নয়। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্টটি জানায়, তরুণদের অনলাইনে নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর অভিজ্ঞতা প্রদান করাই কোম্পানির প্রধান লক্ষ্য। মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে কোম্পানিটি তরুণদের বয়স অনুযায়ী কনটেন্ট দেখার ব্যবস্থা তৈরি করেছে বলেও জানিয়েছে গুগল।
অন্যদিকে মেটা জানায়, অভিযোগের বিষয়গুলো সমাধানে কোম্পানিটি এক যুগেরও বেশি সময় কাজ করছে। পাশাপাশি তরুণ ব্যবহারকারীরা যেন বয়স অনুযায়ী কনটেন্ট দেখতে পায় সেজন্য ৩০টির বেশি টুলস ও ফিচারও চালু করা হয়েছে। ২০২২ সালেও উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় মেটা, স্ন্যাপ, টিকটক ও অ্যালফাবেটের বিরুদ্ধে অনুরূপ মামলা হয়েছিল। সে সময় অধিকাংশ স্কুল ও জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কাজে সম্পৃক্ত কোম্পানির দাবি ছিল, এসব কোম্পানির কনটেন্ট বা পণ্য কিশোরদের বেশি সময় ডিভাইসে থাকার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। আর এ কারণে তাদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার অবনতি হয়েছে।










