চলতি বছর বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ৪০০ কোটির বেশি মানুষ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে। মেশিন লার্নিং ফার্ম ক্ল্যারিটির তথ্যানুসারে, এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি কনটেন্টের কারণে নির্বাচন-সম্পর্কিত ভুল তথ্যের প্রচার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বছরওয়ারি হিসেবে এসব কনটেন্ট তৈরির হার ৯০০ শতাংশ বেড়েছে।

সিএনবিসিতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ডিপফেক প্রযুক্তির  মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার রোধে চলতি বছর একত্রে কাজ করার বিষয়ে চুক্তি করেছে বিশ্বের ২০টি শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানি। 

মাইক্রোসফট,  মেটা, গুগল থেকে শুরু করে অ্যামাজন, আইবিএম, অ্যাডোবি ও চিপ ডিজাইনার আর্ম এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কোম্পানি ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, স্ট্যাবিলিটি এআই এবং স্ন্যাপ, টিকটক ও এক্সের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও কাজ করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। 

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ভুল তথ্যের প্রচার ব্যাপক আকার ধারণ করে ও বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন রুশ সাইবার অপরাধীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সহজ টুল ও পথের খোঁজ পেয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতারাও এআইয়ের বহুল ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার একজন ডেমোক্রেটিক স্টেট সিনেটর জশ বেকার বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য এআই কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের বেশকিছু কারণ রয়েছে। বর্তমানে অনেক কোম্পানি এটি নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে চাইছে। কিন্তু এআইয়ের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড প্রয়োজন।’

অন্যদিকে ডিপফেক শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত শনাক্তকরণ ও ওয়াটারমার্কিং প্রযুক্তি এখনো সেভাবে বিকশিত হয়নি। বর্তমানে কোম্পানিগুলো শুধু প্রযুক্তিগত মান ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াগুলো নির্ধারণের একটি বিষয়ে সম্মত হয়েছে। স্টেট সিনেটর জশ বেকার জানান, সমস্যাটি কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে কোম্পানিগুলোর দীর্ঘ পথ ও স্তর অতিক্রম করতে হবে।

সম্প্রতি টেক্সট থেকে ভিডিও তৈরিতে নতুন টুল উন্মোচন করেছে ওপেনএআই। এর পরই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর এ উদ্যোগসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে এল। সোরা নামের এ সফটওয়্যারের কথা গত সপ্তাহেই জানিয়েছে মাইক্রোসফট সমর্থিত কোম্পানিটি। বর্তমানে এটি রেড টিমিং প্রক্রিয়ার জন্য উন্মুক্ত আছে, যার সহায়তায় এআই ব্যবস্থাটির বিভিন্ন ত্রুটি শনাক্ত করা যাবে। এছাড়া মডেলটি ব্যবহারের সম্ভাব্য ফিডব্যাক পেতে ভিজুয়াল শিল্পী, ডিজাইনার ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্যও এটি উন্মুক্ত বলে সূত্রে জানা গেছে।

সোরা একাধিক চরিত্র ও বিভিন্ন ধরনের মোশন দিয়ে বিভিন্ন জটিল দৃশ্যপট তৈরি করতে সক্ষম। টেক্সট প্রম্পট থেকে ভিডিও তৈরি বাদেও সোরার মাধ্যমে কোনো স্থির ছবিকে অ্যানিমেট করার সুবিধাও মিলবে বলে এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে ওপেনএআই।