রকেট উৎক্ষেপণে নাসা ও ইলোন মাস্কের স্পেসএক্সের পথ অনুসরণ করতে চায় ভারত। রকেট ও স্যাটেলাইট তৈরির কাজ এগিয়ে নিতে বেসরকারি খাতের দিকে ঝুঁকছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার (ইন-স্পেস)। সম্প্রতি সরকারি সংস্থাটির চেয়ারম্যান পবন গোয়েঙ্কা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
পবন গোয়েঙ্কা বলেন, ‘ভারতের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরোর তৈরি লঞ্চ ভেহিকলগুলো এখন বেসরকারি স্টার্টআপগুলোর মাধ্যমে উৎপাদন করানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। চন্দ্রযানের মতো অভিযানে ব্যবহৃত রকেটগুলো এখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তৈরি করা হবে।’ এটি প্রায় ৪০০-৫০০ কোটি ডলারের একটি বিশাল ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে পারে। ভারত শুধু রকেট নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং ছোট স্যাটেলাইট রফতানির ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চীন মহাকাশ প্রতিরক্ষায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশটির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে ভারতীয় সরকার মহাকাশ গবেষণায় জোর দিয়েছে। কয়েক বছর ধরে মহাকাশ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে দেশটি শক্তিশালী হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে চন্দ্রযান-৩ অভিযানের মাধ্যমে ভারত চাঁদে অবতরণ করা বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে নাম লেখায়। একই সঙ্গে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছানো প্রথম দেশ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখায়।
ভারতের দুটি বেসরকারি স্টার্টআপ স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ও অগ্নিকুল কসমস এরই মধ্যে সাব-অরবিটাল লঞ্চ ভেহিকলের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো রাজি পিল্লাই বলেন, ‘ইসরোর বাইরেও প্রতিভাবান ব্যক্তিরা আছেন, তা প্রমাণিত। ভারতের মহাকাশ খাতের চাহিদা বেড়েছে, বিশেষ করে সামরিক চাহিদার কারণে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চীনের পাশাপাশি অন্যান্য বেসরকারি কোম্পানিও ছোট স্যাটেলাইট খাতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। ভারত যদি দ্রুততার সঙ্গে তার লঞ্চ অবকাঠামো উন্নত না করে তাহলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।’
দক্ষিণ ভারতে একাধিক মহাকাশ স্টার্টআপ গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠান হালকা ওজনের মহাকাশযান উপকরণ, উচ্চ-রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ইমেজিং এবং কৃষি ও খনন শিল্পের জন্য ডাটা বিশ্লেষণ করে থাকে।










