অনেক সময় স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যায়। যেখানে সাধারণ কাজকর্ম করাই কঠিন, সেখানে শখের পিয়ানো বাজানো তো দূরের কথা। স্ট্রোক ছাড়া আরো নানা কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যেমন ফোকাল ডিসটোনিয়া নামে এক রোগের কারণে ব্রাজিলিয়ান পিয়ানোবাদক জোঁয়াও কার্লস মার্টিনস ২০১৯ সালে পিয়ানো বাজানো বন্ধ করতে বাধ্য হন। তাদের জন্য সমাধান নিয়ে এলেন গবেষকরা। কেমন হবে যদি একটি বায়োনিক গ্লাভস দিয়ে স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তিরাও পিয়ানো বাজাতে পারেন।  ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ফ্লোরিডার একদল গবেষক এমনই এক গ্লাভস আবিষ্কার করেছে। তাদের আবিষ্কার করা ফ্লেক্সিবল এক্সোস্কেলেটন প্রোটোটাইপটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়, যা স্ট্রোক-পরবর্তী ভুক্তভোগীর কষ্ট কমাতে সাহায্য করে। এখানে থ্রিডি প্রিন্টেড পলিভিনাইল অ্যাসিড স্টেন্টস এবং একটি হাইড্রোজেল মোল্ডিং ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্লাভসটি ব্যবহারকারীর একদম হাতের মতো করেই গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। 

মূলত এখনো যারা স্ট্রোকের কারণে হাতের ব্যবহার করতে পারছেন না তাদের জন্য বিভিন্ন ডিভাইস রয়েছে, কিন্তু সেগুলো এতই দৃঢ় যে তা দিয়ে ঠিকভাবে হাত নড়াচড়া করা সম্ভব হয় না, পিয়ানোর মতো বাদ্যযন্ত্র বাজানোর ক্ষেত্রে হাত নাড়ানো খুবই জরুরি। 

সার্বিক বিষয় মাথায় রেখেই ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির (এফএইউ) গবেষকরা প্রতিটি গ্লাভসের আঙুলের ডগায় সমন্বিত বিশেষ সেন্সর অ্যারে ব্যবহার করেছেন, যেন সেগুলো পরে থাকা পিয়ানোবাদককে আরো স্থিরভাবে পরিচালিত করা যায়। এগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আঙুলের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রতিক্রিয়া দেখায়। এভাবে পিয়ানোবাদক যন্ত্রের ভুলগুলো অনুভব করতে পারে এবং সেগুলো নির্ভুল করতে পারে। 

এফএইউর ডিপার্টমেন্ট অব ওশান অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রফেসর এরিক এনগেবার্গ বলেন, ‘‌আমাদের রোবোটিক গ্লাভসগুলো নরম, নমনীয় উপাদানে তৈরি এবং সেন্সরগুলো সেখানে খুব ধীরস্থির সাহায্য করে। যেন আক্রান্ত ব্যক্তি তাদের মোটর দক্ষতা আবার শিখতে ও অর্জন করতে পারে।’

সম্প্রতি পাইলট স্টাডিতে গবেষক দল গ্লাভস জোড়ার কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে, যার বিস্তারিত ফ্রন্টিয়ারস ইন রোবোটিকস অ্যান্ড এআই জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। কার্যকারিতা দেখানোর জন্য গবেষকরা পিয়ানোতে মেরি হ্যাড এ লিটল ল্যাম্ব বাজানোর জন্য এক্সোস্কেলেটনে প্রোগ্রাম সেট করেন, যেটা অন্য কাউকে পরে থাকতে হবে না। গবেষকরা পুরোটা জুড়ে অনেক ভুল সামনে এনেছেন, যাতে মেশিনের শনাক্তকরণ ও সংশোধন দক্ষতা মূল্যায়ন করা যায়।  

একই পরীক্ষণ পরবর্তী সময়ে পিয়ানোবাদককে দিয়ে পরিচালনা করা হয়। এর মাধ্যমে গ্লাভসটির কার্যকারিতা আরো পরিষ্কার হয়েছে, যা দিয়ে পিয়ানোবাদকরা তাদের হাতের স্বাভাবিক নড়াচড়া আরো ভালোভাবে করতে পারবেন। সর্বোপরি, পিয়ানোতে নার্সারির এ ছড়াটি বাজানোর সময়ে নিজেদের আঙুল আরো বাঁকাতে ও সম্প্রসারণ করতে পারবে।

স্ট্রোক বা হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারানো ব্যক্তিদের মোটর স্কিল ফিরে পাওয়াটা একটি দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ। এফএইউ কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সের ডিন স্টেলা বাটালামা বলেন, ‘প্রযুক্তিটি সত্যিকারের একটি গেম চেঞ্জার। বিশেষ করে যাদের নিউরোমাসকুলার ডিসঅর্ডার এবং অঙ্গের কার্যকারিতা হ্রাসের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য।’