টেক জায়ান্ট অ্যাপলের ম্যাক অ্যাপ স্টোর থেকে উধাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) অ্যাপ। ফলে ব্যবহারকারীরা অ্যাপ স্টোর থেকে এক্সের অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারছেন না। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাক অ্যাপ স্টোরে ‘টুইটার’ ও ‘এক্স’ লিখে সার্চ করে পাওয়া যায়নি। এমনকি ইউআরএল ব্যবহার করেও খোঁজ মেলেনি অ্যাপটির। বরং পপ-আপ মেসেজে দেখানো হয় যে অ্যাপটি অনুপলব্ধ। ফলে ম্যাক ব্যবহারকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির জন্য ব্রাউজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।   

যাদের আগে থেকেই অ্যাপটি ইনস্টল করা ছিল তাদের অনেকেই বলেছেন, মাধ্যমটি ব্যবহার করা যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, তারা সম্ভবত ম্যাকওএসের সংস্করণজনিত সমস্যার কারণে ব্যবহার করতে পারছেন না। সাধারণ ব্যবহারকারীরা এক্স ও রেডিটে তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

ঠিক কবে অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি সরানো হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি এবং টেকক্রাঞ্চের পক্ষ থেকে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলেও কিছু বলেনি এক্স। আরেকটি বিষয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে  গেছে। তা হলো  এক্সের ম্যাক অ্যাপে সেবা বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা এবং থাকলে তা কবে নাগাদ। তবে এটুকু বলা যায়, যেহেতু অ্যাপটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে, তাই দীর্ঘদিন সেবা দেয়া হবে না নিশ্চয়ই!

ইলোন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির নাম ২০২৩ সালে পরিবর্তন করার পর শুধু  ম্যাক অ্যাপের ক্ষেত্রেই নাম পরিবর্তন করা হয়নি এবং প্রায় বছর ধরে কোনো হালনাগাদও প্রকাশ করা হয়নি।  

এর আগে ২০২২ সালে আইফোন নির্মাতা অ্যাপল তাদের অ্যাপ স্টোরে এক্সকে ব্লকের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্ক। অ্যাপলের সঙ্গে এ দ্বন্দ্বের পর নিজেদের ব্লু টিক চিহ্ন সেবার সাবস্ক্রিপশন চার্জের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় এক্স। এছাড়া অ্যাপ স্টোরের দায়িত্বে থাকা ফিল শিলার ওই বছরই নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলেন। তার টুইটার অনুসারীর সংখ্যা ছিল কয়েক লাখ। মাস্ক টুইটার অধিগ্রহণের পর একের পর এক পরিবর্তন নিয়ে আসেন অ্যাপটিতে। ছাঁটাই করেন বেশির ভাগ কর্মী। নাম বদলের পর কিছু নিয়ম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এক্সের বিজ্ঞাপনী আয়ও অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। মাস্কের পরিকল্পনা ছিল বিজ্ঞাপন থেকে সরে এসে সাবস্ক্রিপশনে গুরুত্ব দেয়া।