এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে জেনারেটিভ এআই বা জেনএআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগ। বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি দশকের শেষ নাগাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা পরিচালনার উপযোগী এআই নেটিভ ক্লাউড অবকাঠামো হবে এ অঞ্চলের প্রযুক্তি খাতের মূল চালিকাশক্তি। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) নির্ভর, দ্রুত ও নিয়মসম্মত ক্লাউড প্লাটফর্মে বিনিয়োগ করছে। এসব প্লাটফর্ম জেনএআই সেবা ব্যবহারে তথ্যের নিরাপত্তা বাড়ায়, কাজের গতি ত্বরান্বিত করে ও সামগ্রিক কর্মদক্ষতা উন্নত করে।

‘এআই–অপটিমাইজড ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন এশিয়া-প্যাসিফিক: দ্য রাইজ অব এআই নেটিভ প্রোভাইডারস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ইনফারেন্স অবকাঠামোয় বিনিয়োগ প্রশিক্ষণভিত্তিক অবকাঠামোর চেয়ে বেশি হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু এআই মডেল প্রশিক্ষণ নয়, বরং তা বাস্তবে প্রয়োগ ও ব্যবহারের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। ইনফারেন্স হলো এমন এক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে আগে প্রশিক্ষিত এআই মডেল ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত, পূর্বাভাস বা উত্তর তৈরি করা হয়।

আইডিসির তথ্যানুযায়ী, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ২৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে এআই ও ডাটা ওয়ার্কলোড সভরেন ক্লাউডে স্থানান্তর বা পরিকল্পনা করছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ৬৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ৫০টির বেশি জেনএআই ব্যবহারিক ক্ষেত্র বাস্তবায়ন করবে এবং ২৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ১০০টির বেশি প্রকল্প পরিচালনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব প্রবণতা জিপিইউ-নির্ভর, কম বিলম্ব (লেটেন্সি) ও আইনসম্মত অবকাঠামোর চাহিদা বাড়াচ্ছে।

আইডিসির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের গবেষণাপ্রধান দীপিকা গিরি বলেন, ‘জেনারেটিভ এআই ও এআই এজেন্টের উত্থান পুরো প্রযুক্তি অবকাঠামোর কাঠামো বদলে দিচ্ছে। এআই নেটিভ ক্লাউড এখন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অপরিহার্য অংশীদার হয়ে উঠছে।’

আইডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অঞ্চলজুড়ে বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত ক্লাউড প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। এশিয়া-প্যাসিফিকভিত্তিক জিএমআই ক্লাউড যুক্তরাষ্ট্রের চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বশেষ জিপিইউ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে এবং নিজস্ব ইনফারেন্স ইঞ্জিনের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ সেবা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোরউইভ বড় আকারের এআই মডেল চালাতে জিপিইউ–অ্যাজ–আ–সার্ভিস সুবিধা দিচ্ছে। ইউরোপভিত্তিক নেবিয়াস খাতভিত্তিক জিপিইউ ক্লাস্টার বা ডাটা সেন্টার স্থাপনে বিশেষায়িত। আর যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাম্বডা ল্যাবস শক্তি–সাশ্রয়ী ও টেকসই এআই অবকাঠামো উন্নয়নে মনোযোগ দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেটিভ এআই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো এমন অবকাঠামো খুঁজছে, যা একসঙ্গে উচ্চ কর্মক্ষমতা, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। এআই নেটিভ ক্লাউড প্লাটফর্মগুলো এ চাহিদা পূরণ করছে। এসব প্লাটফর্মের মাধ্যমে র’ কম্পিউটিং পাওয়ার বা উচ্চমাত্রার প্রসেসিং সক্ষমতাকে এখন সরাসরি ব্যবসায়িক প্রয়োগে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। এতে এআই সেবাগুলো আরো কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠছে।

আইডিসি বলছে, এ প্রবণতা ভবিষ্যতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরো দ্রুত এগিয়ে নেবে। প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিরাপদ, সহজে সম্প্রসারণযোগ্য ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে, তবে তারা জেনারেটিভ এআইয়ের যুগে প্রতিযোগিতায় স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকবে।