স্মার্টফোনের ক্ষয়ক্ষতি ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি ভারতের এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের এ সমীক্ষায় ৯৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানান, তাদের ফোন ভেঙে গেলে বা পড়ে গেলে তারা বিরক্ত, উদ্বিগ্ন বা আতঙ্কিত বোধ করেন। খবর কাউন্টারপয়েন্ট।

সমীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, স্মার্টফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে কতটা গভীরভাবে জড়িত। কাজ, বিনোদন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য প্রতিদিনই মানুষ ফোনের ওপর নির্ভরশীল। তাই ফোন টেকসই হওয়া এখন ক্রেতাদের প্রধান চাহিদার মধ্যে অন্যতম। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭৯ শতাংশ ব্যবহারকারী জানান, ফোন কেনার ক্ষেত্রে তারা স্থায়িত্ব বা মজবুত কিনা তাতে গুরুত্ব দেন। এছাড়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে নয়জন স্বীকার করেছেন, অন্তত একবার হলেও তাদের ফোনটি পড়ে গেছে।

জরিপে আরো দেখা গেছে, ব্যবহারকারীরা বিরূপ আবহাওয়ায় ফোনের ব্যবহার এড়িয়ে চলেন। এর মধ্যে ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা বৃষ্টি, পানি বা চরম গরমে ফোন ব্যবহার করেন না। সমীক্ষায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া (৪১%), ব্যাটারি সমস্যা (৩২%) ও দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি (৩২%)। নতুন ফোন কেনার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা স্ক্রিনের স্থায়িত্ব, শক্তিশালী ব্যাটারি ও চরম আবহাওয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

ফোন মেরামত খরচও ব্যবহারকারীর মানসিক চাপ বাড়ায়। সমীক্ষা অনুযায়ী, ১০ জনের মধ্যে সাতজন ফোন ঠিক করতে ২ হাজার রুপি ও ২৯ শতাংশ ৫ হাজার রুপির বেশি খরচ করেন, যা ভারতের গড় ফোনের মূল্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। এর বাইরে, ৮৯ শতাংশ ব্যবহারকারী বলেছেন, ফোন বন্ধ হয়ে গেলে ছবি, ফাইল, ফোন নম্বর ও চ্যাট হারানোর আশঙ্কা করেন।

কাউন্টারপয়েন্টের রিসার্চ ডিরেক্টর তরুণ পাঠক বলেন, ‘আজকের স্মার্টফোন আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত, তাই স্থায়িত্ব মানুষের আবেগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এটি এখন আর শুধু সুবিধা নয়, বরং এক অনিবার্য চাহিদা।’

রিসার্চ অ্যানালিস্ট অভিজিত পলেজা বলেন, ‘প্রধানত ব্যাটারি সমস্যা ও বাহ্যিক ক্ষতির কারণে মেরামতের খরচ বেশি হয়। তাই এখনকার ফোনগুলোয় স্ক্র্যাচ প্রতিরোধী গ্লাস, এয়ারস্পেস-গ্রেড অ্যালুমিনিয়াম, স্টেইনলেস স্টিল এবং পানি ও ধুলাবালি প্রতিরোধক আইপি সিলিং ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ফোনের আয়ু ও পুনঃবিক্রির মূল্য উভয়ই বাড়ে।’